নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন ও উন্নয়নকাজের কারণে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। জরুরি উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে নতুন ৩৩ কেভি লাইনের তার সংযোগ দেওয়া হবে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার সময়সূচি এবং কোন কোন এলাকায় এ সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে, তা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফিডারের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নতুন ৩৩ কেভি লাইনের তার সংযোগের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে বড়াইগ্রাম উপজেলার ফজলিতলা, কালিকাপুর, আহম্মেদপুর বাজার, পার আহম্মেদপুর, কায়েমকোলা, খৌদ্দকাচুটিয়া, বৃ-কাচুটিয়া, কুমরুল, ভবানীপুর, রামাগাড়ি, কামারদহ, আটঘরিয়া, সুইচগেট, হাট গোবিন্দপুর ও শেখপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এসব এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন ৩৩ কেভি লাইনের তার সংযোগের কাজের জন্য সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা প্রয়োজন। নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করতে বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের তিনটি ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন লাইন সংযোগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার মুখে পড়তে হবে।
টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা, ফ্রিজে খাদ্য সংরক্ষণ, পানি সরবরাহ এবং অনলাইনভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি আগেভাগে চার্জ দিয়ে রাখা যেতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, তাদেরও নির্ধারিত সময়ের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলে অপেক্ষা না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। অর্থাৎ শনিবার সন্ধ্যা ৬টার আগেও কাজ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ফিরে আসতে পারে।
নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম যাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
সব মিলিয়ে শনিবার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ১৫টি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।