যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘নূর নিউজ’-এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পূর্ববর্তী ৯ দফা পরিকল্পনার পাল্টা জবাব। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই প্রস্তাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে স্থায়ী শান্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ অবরোধের অবসান। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া। লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
গত সপ্তাহে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে সেই অচলাবস্থার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে তিন সপ্তাহের একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা এখনো টিকে আছে।
এই সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ওমান পুনরায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ৩০ দিনের সময়সীমা এবং ১৪ দফা প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই ‘হার্ডলাইন’ শর্তগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও আলোচনার পথ খোলা থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আগামী কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে বড় কোনো পরিবর্তন আসতে পারে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।