মাঠে ফলাফল আশানুরূপ না হলে অধিনায়কের মেজাজ কিছুটা চড়া থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে লিটন দাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন একটু বেশিই স্পষ্ট হয়ে উঠল। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে হার এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং ধসে আজ সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ লুকাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
একটা সময় ছিল যখন দলের খেলোয়াড়দের ওপর কেউ আঙুল তুললে ঢাল হয়ে দাঁড়াতেন লিটন। গত বছর শামীম হোসেনকে দল থেকে বাদ দেওয়ায় প্রধান নির্বাচকের ওপর চটেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ সিলেটে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। দলের প্রয়োজনে নিচের সারির ব্যাটাররা দায়িত্ব নিতে না পারায় এবার তাদের বিরুদ্ধেই সোচ্চার হলেন অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে লিটন বলেন, “সিরিজ শুরুর আগেই আমি বলেছিলাম লোয়ার অর্ডারের একটা বড় দায়িত্ব আছে। আমরা চেয়েছিলাম তারা ব্যাটিংয়ে কিছুটা ইনপুট দিক। আজকে সেই সুযোগ ছিল, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা।”
শেষ ম্যাচটি হেরে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি করেছে বাংলাদেশ-শামসুল হক
উল্লেখ্য, আজকের ম্যাচে শেষ ১৮ বলের ব্যবধানে মাত্র ১৬ রান তুলতে গিয়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৬টি উইকেট। এমন নাটকীয় ধসকে দলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন লিটন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সমস্যা ৭ নম্বর পজিশন। লিটন সেই ক্ষতটাকেই যেন খুঁচিয়ে দিলেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন:
“বাংলাদেশে এমন কোনো খেলোয়াড় কি আপনার চোখে আছে, যে ৭ নম্বরে খেলবে, ৪ ওভার বোলিং করবে আবার ব্যাটিংটাও করতে পারবে? থাকলে বলবেন।”
লিটন মনে করেন, বর্তমান বিশ্বে যারা স্পিনার হিসেবে খেলে, তারা দলের ব্যাটিংয়েও অবদান রাখে। মেহেদী হাসান, রিশাদ বা নাসুমদের সামর্থ্য থাকলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার প্রতিফলন না ঘটায় অধিনায়ক হতাশ।
রাতারাতি সব বদলে যাবে না—বাস্তবতা মেনেই লিটন এখন তাকিয়ে আছেন ভবিষ্যতের দিকে। দলের বর্তমান সদস্যদের ওপরই ভরসা রাখছেন তিনি। নেটে অনুশীলনের চেয়ে ম্যাচের পরিস্থিতিতে রান পাওয়াটা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বেশি সাহায্য করবে বলে তার বিশ্বাস।
অধিনায়কের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপের আগে এই সংকটের কিছুটা হলেও সমাধান হবে এবং টেল-এন্ডাররা ম্যাচে অবদান রাখতে শুরু করবেন।