জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি: পাম্পে কমছে ভিড়, ফিরছে স্বাভাবিক চিত্র - Uttorpatro TV

জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি: পাম্পে কমছে ভিড়, ফিরছে স্বাভাবিক চিত্র

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২, ২০২৬
স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানি তেল নিচ্ছেন গ্রাহকেরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পরীবাগে ছবি: প্রথম আলো

দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত দুই মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে তেলের জন্য দীর্ঘ যানজট আর মানুষের হাহাকার ছিল, এখন সেখানে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিকাংশ পাম্পে এখন আর আগের মতো দীর্ঘ লাইন নেই; কোনোটি ফাঁকা, আবার কোনোটিতে স্বাভাবিক নিয়মেই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে যানবাহন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ বৃদ্ধি, দামের পুনর্নির্ধারণ এবং যুদ্ধের অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) মতে, কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কারণে তেলের বাজারের অস্থিরতা কমেছে:

  • সরবরাহ বৃদ্ধি: গত ২০ এপ্রিল থেকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।

  • মূল্যবৃদ্ধি ও চাহিদা হ্রাস: গত ১৮ এপ্রিল তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে বাড়তি তেল কিনে রাখার প্রবণতা কমেছে।

  • অনিশ্চয়তা নিরসন: ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পর বৈশ্বিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছি

  • ল, যুদ্ধবিরতির খবরের পর তা স্তিমিত হয়ে এসেছে।

  • প্রশাসনিক নজরদারি: অবৈধ মজুত রোধে সরকারি অভিযান এবং ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার প্রবর্তন আতঙ্ক কমাতে সহায়ক হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমান বাজার দর:

জ্বালানির ধরন পূর্বের দাম (টাকা) বর্তমান দাম (টাকা)
ডিজেল ১০০ ১১৫
অকটেন ১২০ ১৪০
পেট্রল ১১৬ ১৩৫

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম বাড়ার ফলে তেলের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের পাশাপাশি আতঙ্কিত হয়ে মজুত করার মানসিকতাও কমেছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, সরবরাহ কম থাকলে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। তিনি বলেন:

“জ্বালানি তেলের স্বল্পতা দেখা দিলে মানুষের মধ্যে বাড়তি কেনা ও মজুত করার প্রবণতা বাড়ে। সরবরাহ বাড়ানোর পর এখন সেই আতঙ্ক কেটে গেছে। বাজারের এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা জরুরি।”

উল্লেখ্য, মার্চের শুরুতে তেলের চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় রেশনিং ও সরবরাহ সংকটের কারণে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলেও এপ্রিলের শেষ ভাগে এসে সরকার ও বিপণন কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে বাজার এখন অনেকটাই শান্ত।