হাম শুধু সাময়িক জ্বর বা ফুসকুড়ির রোগ নয়—এটি শিশুদের শরীরে গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা, কানের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এসব কারণে মৃত্যুঝুঁকিও থাকে।
বাংলাদেশে চলমান হাম পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া শিশুদের পরবর্তী শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো বিস্তৃত নজরদারি নেই বলে জানা গেছে।
বরগুনার এক মা জানান, তাঁর ১০ মাস বয়সী সন্তান হাম থেকে মুক্ত হলেও এখনো স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে না। চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে তিনি এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে রাজধানীর এক বাবা জানান, হাম থেকে সুস্থ হওয়া তাঁর যমজ সন্তানদের ওজন অনেক কমে গেছে এবং নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের পর শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি তৈরি হয়, যা চোখের ক্ষতি করতে পারে। অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। অনেক সময় রাতকানা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা স্থায়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, হামের কারণে কিছু শিশুর খিঁচুনি বা মৃগীরোগের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে, যদি মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়। এছাড়া অপুষ্টি, কানের পাকা সংক্রমণ, মুখে ঘা এবং দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতাও দেখা যায়।
গর্ভবতী নারী হাম আক্রান্ত হলে মা ও গর্ভের শিশুর জন্যও তা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে অপরিণত সন্তান জন্ম, কম ওজনের নবজাতক কিংবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ সরবরাহ, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে হামের টিকা কার্যক্রম জোরদার ও জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।