রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন ডাকসুর দুই নেতা—এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে, যা ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় থানার সামনে ছাত্রদল নেতা–কর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি চলার পর তাঁদের শাহবাগ থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে বের করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এই হামলা হয় ছবি: প্রথম আলো
এ বি জুবায়ের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দি ক আলী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে তাঁরা বিজয়ী হন।
ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদের দাবি, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষায় এ বি জুবায়েরের সামনে এসে দাঁড়ান ছাত্রদলের নেতা নাহিদুজ্জামান শিপন ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলার চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরাই বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
ঘটনার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁদের উদ্যোগে নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আহতদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।