নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সারাদেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসহ দেশের ২৪ জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। এই প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী হলেও জ্বালানি সংকট ও কারিগরি ত্রুটিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রেকর্ড লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা শহর ও গ্রামের মধ্যে চরম ‘বিদ্যুৎ-বৈষম্য’ তৈরি করছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার রাতে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ১৬৮ মেগাওয়াট। বুধবার দিনের বেলায় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটে।
তবে বিতরণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর তথ্যে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশের বৃহত্তম বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) জানিয়েছে, বুধবার দুপুরে তাদের ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। আরইবির আওতাধীন অনেক এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটে অর্ধেকও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়:
পরিসংখ্যান বলছে, লোডশেডিংয়ের পুরো দায় চাপানো হচ্ছে গ্রামের ওপর। ঢাকা (ডেসকো ও ডিপিডিসি এলাকা) এখন পর্যন্ত লোডশেডিং মুক্ত থাকলেও ময়মনসিংহে লোডশেডিং হচ্ছে ৪৮ শতাংশ। রংপুরে সরবরাহ কম ৪০ শতাংশ এবং খুলনায় ৩৯ শতাংশ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, “লোডশেডিংয়ের তথ্য নিয়ে সরকারের হিসাবে গরমিল আছে। লোডশেডিংয়ের পুরো চাপ গ্রামে না চাপিয়ে তা ঢাকার সাথে সমন্বয় করা উচিত। গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ সময়মতো নিশ্চিত না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার রাজশাহীতে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহ কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও শুক্রবার থেকে গরম আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।