দেশের চলমান জ্বালানি ও তেল সংকটের মাঝে গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে সৌর বিদ্যুৎ। দীর্ঘদিন অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকা ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের পরিবারগুলোতে এখন জ্বলছে আশার প্রদীপ। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সবুজ যুব জোট’-এর উদ্যোগে এসব এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলার একটি চরাঞ্চলে এই সৌর বিদ্যুৎ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শামীম আল সাম্য প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আলোর যাত্রার সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
প্রথম পর্যায়ে এলাকার ২০টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে এই সৌর বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা আরও বাড়ানো হবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দীর্ঘদিন বিদ্যুৎবিহীন থাকা চরাঞ্চলগুলোতে সন্ধ্যার পর কুপি বা ল্যাম্পই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমান তেল সংকটে কেরোসিন জোগাড় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ায় রাত নামলেই পুরো গ্রাম অন্ধকারে ডুবে থাকত।
সুবিধাভোগী পরিবারগুলো জানায়, সৌর বিদ্যুতের আলো আসায় তাদের দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। একজন অভিভাবক আবেগের সাথে বলেন:
”আগে রাইত হইলেই ঘর অন্ধকার হইয়া যাইত। তেল না থাকায় কুপিও জ্বলাইতে পারতাম না। অহন সোলার লাইট পাওয়ায় আমার ছাও-পাওরা (ছেলেমেয়েরা) রাইতেও ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারতাছে। আমরা খুব খুশি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছানো বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে সৌর বিদ্যুতের এই টেকসই সমাধান শুধু অন্ধকার দূর করছে না, বরং চরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে এবং সন্তানদের শিক্ষাজীবনে নতুন গতি আনছে।
সবুজ যুব জোটের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাও যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তবে চরাঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।