বিশেষ সংবাদ - Uttorpatro TV https://uttorpatrotv.com সত্যের পথে, ন্যায়ের লড়াইয়ে Fri, 29 May 2026 18:29:27 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0 https://uttorpatrotv.com/wp-content/uploads/2026/04/cropped-Jpg-2.jpg-e1776070296837-32x32.jpeg বিশেষ সংবাদ - Uttorpatro TV https://uttorpatrotv.com 32 32 অভিযাত্রিকের ২৪৪৪তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত https://uttorpatrotv.com/archives/1955 https://uttorpatrotv.com/archives/1955#respond Fri, 29 May 2026 18:29:27 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1955 নিজস্ব প্রতিবেদক: ছামিউল ইসলাম অভিযাত্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের আয়োজনে ২৪৪৪তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাহিত্য আসরে সভাপতিত্ব করেন অভিযাত্রিকের সভাপতি তৈয়বুর রহমান বাবু। ঈদ পরবর্তী এ সাহিত্য আসরে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট কবি রায়হান আহমেদ রিমন। অনুষ্ঠানে স্বরচিত লেখা পাঠ করেন তৈয়বুর […]

The post অভিযাত্রিকের ২৪৪৪তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
নিজস্ব প্রতিবেদক: ছামিউল ইসলাম

অভিযাত্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের আয়োজনে ২৪৪৪তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাহিত্য আসরে সভাপতিত্ব করেন অভিযাত্রিকের সভাপতি তৈয়বুর রহমান বাবু।

ঈদ পরবর্তী এ সাহিত্য আসরে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট কবি রায়হান আহমেদ রিমন। অনুষ্ঠানে স্বরচিত লেখা পাঠ করেন তৈয়বুর রহমান বাবু, জাহিদ হোসেন, ইসহাক ইরানী, জাহাঙ্গীর আলম বুলেট, বাবু হক, রায়হান আহমেদ রিমন, তাহমিদ হাসান হামিম ও হাসান শাহরিয়ারসহ অন্যান্য সাহিত্যপ্রেমীরা।

আসরে পাঠিত স্বরচিত লেখাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার জাহিদ হোসেন। সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ আসর প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

পরিশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

The post অভিযাত্রিকের ২৪৪৪তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1955/feed 0
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের https://uttorpatrotv.com/archives/1946 https://uttorpatrotv.com/archives/1946#respond Sun, 24 May 2026 17:36:39 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1946  অসাবধানতাবশত অটোভ্যান চার্জ দেওয়ার লাইনে জড়িয়ে গাইবান্ধায় আরও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে জিহাদ মিয়া নামে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (২৪ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে […]

The post গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
 অসাবধানতাবশত অটোভ্যান চার্জ দেওয়ার লাইনে জড়িয়ে গাইবান্ধায় আরও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে জিহাদ মিয়া নামে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (২৪ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

 পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত জিহাদ মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে। সে স্থানীয় হিংগারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি মেম্বার) আব্দুর রাজ্জাক ফকির স্থানীয়দের বরাতে জানান, রোববার সকালে জিহাদ নিজ বাড়ির পাশে প্রতিবেশী শাহিম মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই সময় শাহিমের বাড়ির উঠানে একটি চার্জারচালিত ব্যাটারিচালিত ভ্যান বৈদ্যুতিক লাইনের সাথে সংযোগ দিয়ে চার্জ দেওয়া হচ্ছিল। খেলার ছলে জিহাদ ওই চার্জার ভ্যানটির ওপর বসামাত্রই পুরো শরীরে বিদ্যুৎস্পর্শে অবশ হয়ে পড়ে। গাড়িটি আগে থেকেই কোনো কারণে সরাসরি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বাড়ির লোকজন টের পেয়ে দ্রুত তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে কালবিলম্ব না করে প্রতিবেশীদের সহায়তায় জিহাদকে পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু জিহাদকে মৃত ঘোষণা করেন। খেলার ছলে বেড়াতে গিয়ে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটিতে এখন চলছে মাতম।

 জিহাদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে হিংগারপাড়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হিংগারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “জিহাদ মিয়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির অত্যন্ত নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলেটি ব্যবহারে অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ছিল। তার এই আকস্মিক চলে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, “বিদ্যুৎস্পর্শে হিংগারপাড়া গ্রামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। অসাবধানতার কারণে ঘটে যাওয়া এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মস্পর্শী। ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন বুক খালি করা ঘটনা আর না ঘটে।”

 এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার জানান, লোকমুখে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ বা আপত্তি আছে কি না তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

The post গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1946/feed 0
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি: শুধু আইন নয়, বদলাতে হবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা https://uttorpatrotv.com/archives/1934 https://uttorpatrotv.com/archives/1934#respond Sat, 23 May 2026 09:37:11 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1934 সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে কিংবা বাইরে—কোথাও আজ নারীরা নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন না। চার বছরের শিশু থেকে শুরু করে বিবাহিত নারী, কেউই এই ঘৃণ্য অপরাধ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক গণধর্ষণের খবর বিবেকবান মানুষকে […]

The post ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি: শুধু আইন নয়, বদলাতে হবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে কিংবা বাইরে—কোথাও আজ নারীরা নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন না। চার বছরের শিশু থেকে শুরু করে বিবাহিত নারী, কেউই এই ঘৃণ্য অপরাধ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক গণধর্ষণের খবর বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করে তুলছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমেছেন, যা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ধর্ষণ কেবল একটি আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক ব্যাধি, ক্ষমতার দম্ভ এবং পুরুষতান্ত্রিক বা পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তীব্র সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বড় বড় অপরাধের গ্রাফ নামিয়ে আনা সম্ভব। যেমন, আজ থেকে দুই দশক আগে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ জন নারী অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হতেন। কিন্তু সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা, কঠোর আইন এবং সামাজিক প্রতিরোধের কারণে ২০১৯ সালে এই সংখ্যা মাত্র ১৮-তে নেমে আসে। ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধেও যদি একইভাবে দেশজুড়ে তীব্র সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তবে এই ব্যাধি থেকেও সমাজকে মুক্ত করা সম্ভব। রাষ্ট্রকে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়।

শিশু ও নারী নির্যাতন, নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা ছবি: প্রথম আলো

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মূল চালিকাশক্তি কেবল যৌন লালসা বা কামনা নয়। এটি মূলত দুর্বলকে দাবিয়ে রাখা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিজের ক্ষমতা জাহির করার একটি জঘন্য মাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে দেখা গেছে, বহু নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই ট্রমার মধ্য দিয়ে যান, যার ফলে তারা পরবর্তীতে ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ বা তীব্র মানসিক বিষাদে ভোগেন।

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা বা কুসংস্কার রয়েছে যে, নারীর পোশাকের কারণে ধর্ষণ বাড়ে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পোশাকের কোনো সম্পর্ক এখানে নেই; সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখা নারী এবং কোলের শিশুও এই লালসার শিকার হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা ‘রেপ ক্রাইসিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরা পরিচিত বা আপনজনদের দ্বারাই বেশি নির্যাতিত হন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, প্রায় ৭৭ শতাংশ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে পরিবারের চার দেয়ালের ভেতরে। একইভাবে শিশুদের ওপর হওয়া যৌন নির্যাতনের বড় অংশই ঘটে পরিচিত পরিবেশ ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন) বিশ্বজুড়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকারী আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, নারী সংগঠনগুলোতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনের বৈষম্যগুলো দূর করা।

তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসতে হবে পরিবার থেকে। যেহেতু এই অপরাধগুলো পুরুষদের দ্বারা সংঘটিত হয়, তাই পুরুষদের মানসিকতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি। একটি ছেলে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে কীভাবে নারীকে সম্মান করতে হয়। পরিবারের বড় পুরুষরা যদি ঘরের নারীদের সঙ্গে সহিংস আচরণ করেন, তবে শিশুরা সেটাই শেখে। ছেলেদের শুধু ‘হ্যাঁ’ শোনার অভ্যাসের বাইরে গিয়ে ‘না’ শব্দটিকে সম্মান করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে পুরুষদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন—নিজের পুরুষত্বকে অহংকার বা আগ্রাসনের প্রতীক না বানিয়ে মানবিক হিসেবে গড়ে তোলা, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীর সম্মতিকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া, সামাজিক মাধ্যমে বা বাস্তবে নারীকে হেয় করে এমন কৌতুকের প্রতিবাদ করা এবং নারীর মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া।

আমাদের দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার অনেক সময় অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে প্রতিবাদ কেবল ফেসবুকের স্ট্যাটাসে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও রাজপথ—সব জায়গায় এই পিতৃতান্ত্রিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সম্মিলিত ও প্রবল প্রতিবাদের মাধ্যমেই একদিন সমাজ থেকে এই অন্ধকারের অবসান ঘটবে এবং নারী ও শিশুর জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে উঠবে।

The post ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি: শুধু আইন নয়, বদলাতে হবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1934/feed 0
২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার: দেশজুড়ে বাড়ছে শিশুর হাম ও হামের উপসর্গ https://uttorpatrotv.com/archives/1928 https://uttorpatrotv.com/archives/1928#respond Sat, 23 May 2026 09:23:32 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1928 দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। মহামারি রূপ নেওয়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০-এর কোটা ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক […]

The post ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার: দেশজুড়ে বাড়ছে শিশুর হাম ও হামের উপসর্গ first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। মহামারি রূপ নেওয়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০-এর কোটা ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত বা শনাক্ত হওয়া গেছে। বাকি ১২ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

২৪ ঘণ্টার আঞ্চলিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকায় ৪ জন এবং সিলেটে ৪ জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২ জন, বরিশালে ২ জন (যার মধ্যে ১ জন ল্যাব শনাক্ত) এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

দেশে এ সময়ে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে শিশুর হাম ফাইল ছবি

মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯৬৭ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬২ হাজার ৫০৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে রোগাক্রান্ত হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে ৪৫ হাজার ১১ জন শিশু ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত মোট মৃত্যুর একটি বড় অংশই ঘটেছে ল্যাব পরীক্ষার আগেই, অর্থাৎ কেবল উপসর্গ নিয়ে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪২৬ জন শিশু। অন্যদিকে, রক্ত বা অন্যান্য ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৮৬ জন শিশু।

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক একটি রোগ। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টির অভাবের কারণে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, শরীর লালচে র‍্যাশ বা দানা ওঠা, সর্দি-কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দেখামাত্রই শিশুকে আইসোলেশনে বা আলাদা রাখতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। কোনোভাবেই সাধারণ জ্বর মনে করে অবহেলা করা যাবে না, কারণ সঠিক চিকিৎসার অভাবে এটি নিউমোনিয়া বা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে রূপ নিয়ে শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

The post ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার: দেশজুড়ে বাড়ছে শিশুর হাম ও হামের উপসর্গ first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1928/feed 0
ঈদের আগে শনিবারও খোলা ব্যাংক, এরপর টানা ৭ দিনের ছুটি! https://uttorpatrotv.com/archives/1921 https://uttorpatrotv.com/archives/1921#respond Fri, 22 May 2026 06:25:30 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1921 পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘ ছুটির আমেজ তৈরি হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ঈদের এই দীর্ঘ ছুটির আগে গ্রাহকদের সুবিধার্থে আগামী শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেশের সব ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক […]

The post ঈদের আগে শনিবারও খোলা ব্যাংক, এরপর টানা ৭ দিনের ছুটি! first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘ ছুটির আমেজ তৈরি হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ঈদের এই দীর্ঘ ছুটির আগে গ্রাহকদের সুবিধার্থে আগামী শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেশের সব ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এর ফলে ঈদের ছুটির আগে গ্রাহকেরা আগামী শনিবার এবং রোববার—এই দুই দিন ব্যাংকে স্বাভাবিক সময়ের মতো সব ধরনের আর্থিক লেনদেন করার সুযোগ পাবেন।

সাধারণত শুক্র ও শনিবার ব্যাংকগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তবে এবার ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে সরকার ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এই দীর্ঘ ছুটির কারণে যাতে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আর্থিক সংকটে না পড়েন, সেজন্যই ছুটির আগের শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে এই শনিবার ব্যাংকগুলোতে অন্যান্য কর্মদিবসের মতোই স্বাভাবিক লেনদেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রবিবার) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ ব্যাংকও তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই ছুটির নির্দেশনা জারি করে। ফলে সোমবার থেকে টানা সাত দিন ব্যাংক পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ এই ছুটির সময়ে গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম বুথ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এর ওপর নির্ভর করতে হবে। তাই ক্যাশ টাকার প্রয়োজন থাকলে শনি ও রোববারের মধ্যেই তা সংগ্রহ করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

টানা সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকলেও তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে শিল্প-সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো আগামী ২৫ ও ২৬ মে (সোমবার ও মঙ্গলবার) সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।

শিল্প এলাকা যেমন—ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলোতে এই বিশেষ সেবা পাওয়া যাবে। তবে এসব শাখায় লেনদেনের সময়সীমা কিছুটা সীমিত করা হয়েছে। ২৫ ও ২৬ মে এই শাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও গ্রাহকদের সরাসরি লেনদেন চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। বাকি সময় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ও সমাপনী কাজ সম্পন্ন করা হবে।

যেহেতু ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ব্যাংকের স্বাভাবিক শাখাগুলো বন্ধ থাকবে, তাই বড় অঙ্কের লেনদেন কিংবা জরুরি ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মতো কাজগুলো আগামী শনি ও রোববারের মধ্যে শেষ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকলেও এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপগুলো সার্বক্ষণিক চালু থাকবে, যার ফলে ছোটখাটো লেনদেনে গ্রাহকদের খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না

The post ঈদের আগে শনিবারও খোলা ব্যাংক, এরপর টানা ৭ দিনের ছুটি! first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1921/feed 0
শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী https://uttorpatrotv.com/archives/1905 https://uttorpatrotv.com/archives/1905#respond Thu, 21 May 2026 15:30:58 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1905 গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার মুখোমুখি করতে চায় সরকার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার […]

The post শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার মুখোমুখি করতে চায় সরকার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এই গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা যায়।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তখন থেকেই তিনি নয়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ)’ কার্যকর হওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়। আসামের এনআরসি বা ভারতের সিএএ তাদের নাগরিকদের জন্য তৈরি করা নিজস্ব আইন। এ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো বক্তব্য রাখার সুযোগ নেই। তবে ভারতের এই আইনের কারণে সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ ইন) না ঘটতে পারে, সে জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে ধ*র্ষণ ও হত্যার ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মূল আসামি ইতিমধ্যেই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সরকার সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করবে।

ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশে ঘটে যাওয়া প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, দ্রুততম সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যপরিধি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ দুই ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে—‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ (প্রতিরোধমূলক) এবং ‘রি-অ্যাক্টিভ’ (প্রতিক্রিয়ামূলক)। মাদক, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান যৌথ অভিযানগুলো মূলত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা রুখে দেয়। আর ধ*র্ষণ বা হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ ঘটে গেলে রি-অ্যাক্টিভ ব্যবস্থা হিসেবে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার ও তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অতীতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর মামলা বর্তমান সরকার নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলা, কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো রয়েছে। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযানের তথ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় নিশ্ছিদ্র তল্লাশি ও ব্লক রেইড চলছে। এ ছাড়া গত ১৮ ও ১৯ মে যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলেও র‍্যাব-১৫-এর বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইন সংস্কারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন সংস্কার একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সব আইনকে পর্যায়ক্রমে যুগোপযোগী করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সাময়িক কোনো ক্ষোভ বা আবেগের বশবর্তী হয়ে চটজলদি নতুন আইন প্রণয়ন কিংবা বিশেষ আদালত গঠন করা মোটেও সমীচীন নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নামে যেন কোনো নাগরিকের প্রতি ‘অবিচার’ না হয় এবং কঠোর আইনের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না হয়, সেদিকেও সরকারকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

The post শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1905/feed 0
রাষ্ট্রের ভেতরে আর ‘আলাদা রাষ্ট্র’ নয়: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা https://uttorpatrotv.com/archives/1893 https://uttorpatrotv.com/archives/1893#respond Thu, 21 May 2026 06:28:38 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1893 দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ঢাকার অভিজাত ‘বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা’ সম্পূর্ণভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসছে। গত ৭ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় এবং পরবর্তী সময়ে ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ-সংক্রান্ত নথিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এর ফলে এলাকাটিতে দীর্ঘ চার দশক ধরে চলে আসা বসুন্ধরা গ্রুপের […]

The post রাষ্ট্রের ভেতরে আর ‘আলাদা রাষ্ট্র’ নয়: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ঢাকার অভিজাত ‘বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা’ সম্পূর্ণভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসছে। গত ৭ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় এবং পরবর্তী সময়ে ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ-সংক্রান্ত নথিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এর ফলে এলাকাটিতে দীর্ঘ চার দশক ধরে চলে আসা বসুন্ধরা গ্রুপের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সমান্তরাল শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

প্রায় ৩ হাজার ৪০৪ একর আয়তনের বিশাল এই আবাসিক এলাকাটি এত দিন মূলত বসুন্ধরা গ্রুপ এবং তাদের অনুগত ‘বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সাধারণ বাসিন্দা ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এলাকাটি যেন ছিল ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র’। নিজস্ব নিরাপত্তাবাহিনী, নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নিজস্ব নিয়মনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ থাকায় এত দিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এখান থেকে কোনো গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) আদায় করতে পারত না। এমনকি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, খেলার মাঠ বা অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও ছিল সম্পূর্ণ বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এই গাড়ি চলাচল করে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ব্যক্তিমালিকানার কোনো জমি কেনাবেচা করতে গেলে সরকারি করের বাইরেও কাঠাপ্রতি মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো বসুন্ধরা গ্রুপকে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে এই ফির পরিমাণ কাঠাপ্রতি ১০ লাখ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মালিকদের কাছ থেকে ২ থেকে দেড় লাখ টাকা অতিরিক্ত ফি নেওয়া হতো। ফ্ল্যাটমালিকদের কাছ থেকে বর্গফুট মেপে প্রতি মাসে জোরপূর্বক আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের ‘সার্ভিস চার্জ’। সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে এলে বাসিন্দাদের এই অন্যায্য খরচের হাত থেকে মুক্তি মিলবে এবং তারা সরাসরি সরকারকে নির্ধারিত গৃহকর দিয়ে রাষ্ট্রীয় সব নাগরিক সেবা পাবেন।

২০১৬ সালেই এই এলাকাটিকে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর এই বিষয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বয়ে এই আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য প্রকাশের পর থেকেই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বর্তমানে তাদের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোর সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষ করে মাঠ, থানাসহ নাগরিক সেবার জমি সরকারি সংস্থার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। ১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু করা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বারবার লে-আউট প্ল্যান সংশোধন করে দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বসুন্ধরাকে দ্রুত এই এলাকা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করার জন্য ইতিমধ্যে দুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, তারা সরকারের নির্দেশনা পেয়েছেন এবং খুব দ্রুতই বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে এলাকাটিতে আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করবেন। এলাকাটিতে নতুন পুলিশ থানা স্থাপনসহ সব নাগরিক সুবিধা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

The post রাষ্ট্রের ভেতরে আর ‘আলাদা রাষ্ট্র’ নয়: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1893/feed 0
১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল: মূল বেতন বাড়ছে ৫০%, সরকারি কর্মচারীদের জন্যও সুখবর https://uttorpatrotv.com/archives/1883 https://uttorpatrotv.com/archives/1883#respond Wed, 20 May 2026 09:40:04 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1883 দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে নতুন জাতীয় পে-স্কেল। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি চলছে। এই ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ অর্থ যুক্ত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে […]

The post ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল: মূল বেতন বাড়ছে ৫০%, সরকারি কর্মচারীদের জন্যও সুখবর first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে নতুন জাতীয় পে-স্কেল। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি চলছে। এই ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ অর্থ যুক্ত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক তথা পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগ ও নীতিগত পর্যায় থেকে জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আদায়ের গতি এবং বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে এই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছবি: বাসস

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছর সরকারি কর্মচারীরা তাদের বর্তমান মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ সমন্বিত সুবিধা পাবেন। এর পরবর্তী অর্থবছরে (দ্বিতীয় ধাপে) আরও ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন যুক্ত হবে। অর্থাৎ দুই বছরের মধ্যে মূল বেতনের শতভাগ সমন্বয় সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক চাপ সামলাতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, বিশেষ প্রণোদনা কিংবা ঝুঁকি ভাতার মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো তৃতীয় বছর তথা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে গিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশমালা প্রস্তুত করছে। কমিটির বৈঠক শেষে এই রূপরেখা দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সরকারপ্রধানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গ্যাজেট জারি করা হবে।

কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই পে-স্কেলের সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট কোনো ক্যাডারের জন্য নয়, বরং প্রশাসন, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনসহ সকল সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এমনকি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও সমন্বিত নির্দেশনা জারি করা হতে পারে।

এবারের পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হারে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই শ্রেণির মানুষরাই সবচেয়ে বেশি হিমশিম খাচ্ছেন। তাই বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান আর্থিক বৈষম্য কমিয়ে এনে নিম্নস্তরের কর্মীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাকরিজীবীদের পাশাপাশি যারা অবসরে গিয়েছেন, সেই পেনশনভোগীদের জন্যও থাকছে বড় চমক। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী, পেনশন বৃদ্ধির হার এবার নজিরবিহীন হতে পারে।

সুপারিশের খসড়া অনুযায়ী, যারা বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশনের পরিমাণ প্রায় ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা মাসিক পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং যারা ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ বিবেচনা করা হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এর কতটুকু অংশ কার্যকর করা সম্ভব, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধির এই কৌশলকে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ এই বিষয়ে জানান, গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট বা আয় বাড়েনি। ফলে সাধারণ নিত্যপণ্য কিনতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে একবারে সব ভাতা না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি সরকারের সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

একই সুর শোনা গেছে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষায় নবম পে-স্কেলের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। তবে সরকারের ওপর যেন হঠাৎ বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি না হয়, সেজন্য তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল অত্যন্ত দূরদর্শী ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত।

The post ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল: মূল বেতন বাড়ছে ৫০%, সরকারি কর্মচারীদের জন্যও সুখবর first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1883/feed 0
নভেম্বর-ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও সহিংসতা রুখতে কঠোর অবস্থানে বিএনপি https://uttorpatrotv.com/archives/1872 https://uttorpatrotv.com/archives/1872#respond Wed, 20 May 2026 05:15:26 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1872 দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়া নাগরিক সেবা সচল করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় […]

The post নভেম্বর-ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও সহিংসতা রুখতে কঠোর অবস্থানে বিএনপি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়া নাগরিক সেবা সচল করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সম্ভাব্য ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও সহিংসতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ভেতর এক ধরণের কৌশলগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে, সেগুলোতে সবার আগে ভোট গ্রহণ হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আসা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের অপসারণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর ফলে স্থানীয় সরকারের প্রায় প্রতিটি স্তর বর্তমানে জনপ্রতিনিধিশূন্য অবস্থায় রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও সচিবদের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে দাপ্তরিক কাজ চালানো হলেও এটি তাদের মূল দায়িত্ব না হওয়ায় সেবা গ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতেই দ্রুত ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেহেতু এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হচ্ছে, তাই একই পদে দলের একাধিক নেতা মাঠে নেমে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। এই বাস্তবতায় দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। গত ৯ মে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই ছিল দলের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক বৈঠক, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অতীতের সরকারের মতো কোনো প্রকার প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বা দলীয় সুবিধা ব্যবহার করে কাউকে বিজয়ী করার সুযোগ এবার থাকবে না। প্রতিটি প্রার্থীকে মাঠে কাজ করে জনগণের মন জয় করেই নির্বাচিত হতে হবে। সংসদ নির্বাচনে যারা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে স্থানীয় নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগ দিয়ে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

গত ৯ মে ঢাকার কেআইবি মিলনায়তনে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশফাইল ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

প্রতীকহীন নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা। খামারবাড়ির বৈঠকে মাঠপর্যায়ের নেতারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের তাগিদ দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং এ ক্ষেত্রে অপরাধীর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। বিগত দিনে আন্দোলনের কারণে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও এখন থেকে যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যে কিছুটা স্থবিরতা চলে এসেছিল, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য এই স্থানীয় নির্বাচনকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটির নীতিনির্ধারকেরা। অনেক নেতাকর্মী ব্যবসা-বাণিজ্য বা ঠিকাদারিতে ঝুঁকে পড়ায় এবং সংসদ সদস্যদের ঘিরে নিজস্ব বলয় তৈরি করায় দলের নিয়মিত কর্মসূচিতে কিছুটা ভাটা পড়েছিল।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে ১০ মে সারা দেশে জেলা ও মহানগর কমিটির কাছে বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। চিঠিতে তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বয় বাড়িয়ে দলীয় তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধীদের অপপ্রচার রুখতে এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করার মাধ্যমই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

The post নভেম্বর-ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও সহিংসতা রুখতে কঠোর অবস্থানে বিএনপি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1872/feed 0
সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ তুমুল গোলাগুলি: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গর্জে উঠল বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা https://uttorpatrotv.com/archives/1869 https://uttorpatrotv.com/archives/1869#respond Wed, 20 May 2026 05:04:24 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=1869 দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবারও বুক চিতিয়ে বীরত্বপূর্ণ জবাব দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সিলেট সীমান্তের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট এলাকায় বিএসএফের অতর্কিত ও উসকানিমূলক গুলিবর্ষণের জবাবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বিজিবি জওয়ানেরা। বাংলাদেশের সীমান্ত প্রহরীদের বজ্রকঠিন ও পেশাদারী অ্যাকশনের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য […]

The post সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ তুমুল গোলাগুলি: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গর্জে উঠল বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবারও বুক চিতিয়ে বীরত্বপূর্ণ জবাব দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সিলেট সীমান্তের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট এলাকায় বিএসএফের অতর্কিত ও উসকানিমূলক গুলিবর্ষণের জবাবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বিজিবি জওয়ানেরা। বাংলাদেশের সীমান্ত প্রহরীদের বজ্রকঠিন ও পেশাদারী অ্যাকশনের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় ভারতীয় বাহিনী। এই বীরত্বপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থানের পর বর্তমানে ওই এলাকার সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে সোনারহাট সীমান্তে আকস্মিকভাবে উসকানিমূলক গুলিবর্ষণ শুরু করে বিএসএফের সদস্যরা। কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই ভারতীয় বাহিনীর এমন কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে গর্জে ওঠে বিজিবির অস্ত্র। দেশের সীমানা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি জওয়ানেরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু সময় তুমুল গোলাগুলি চলে। বিজিবির এমন তাৎক্ষণিক ও অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিএসএফের আগ্রাসী তৎপরতা থমকে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির পর থেকে সোনারহাটসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল, রণপ্রস্তুতি এবং নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে।

৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফের গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা না গেলেও বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে যে কড়া জবাব দিয়েছে, তার ফলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অননুমোদিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন করা হয়েছে।

সিলেট সীমান্তের এই ঘটনা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষকরা বলছেন, বিএসএফ বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তজুড়ে যে রক্তাক্ত নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নীতি ব্যবহার করে বিএসএফ দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আগ্রাসন চালাচ্ছে, যা বিশ্ব দরবারে নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন। তবে গত দুই বছরে বিএসএফের এই একতরফা আধিপত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে বিজিবি এবং সীমান্তবর্তী বীর জনতা অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি যশোরের ধান্যখোলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বিজিবি সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন শহীদ হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত নীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জোনে ভারতের অবৈধ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুড়ে নসাৎ করে দেয় বিজিবি।

ছবি- অনলাইন থেকে সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করে। বিজিবির এই দেশপ্রেমিক ও কৌশলগত পরিবর্তন ভারতীয় স্ট্র্যাটেজিক থিংক ট্যাংক ‘ইনষ্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’ (আইডিএসএ)-এর প্রতিবেদনেও ভারতের জন্য একটি বড় ‘নিরাপত্তা ভীতি ও ধাক্কা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।

এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্তে কিশোরী স্বর্ণা দাস এবং ঠাকুরগাঁও সীমান্তে কিশোর জয়ন্ত কুমার সিংহকে বিএসএফ নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তখন কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয় এবং বিজিবি ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে বিএসএফের দ্বিচারিতাকে কঠোর ভাষায় জবাব দেয়।

বিজিবির এই অনমনীয় অবস্থানের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষও এখন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিএসএফের অনধিকার প্রবেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। গত বছর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলে বিজিবি।

সবশেষ চলতি বছরের শুরুর দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে প্রজেক্টর লাইট জ্বালিয়ে দাদাগিরি দেখানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। পরবর্তীতে বিজিবি নিজ নিজ বাংকারে ভারী অস্ত্রসহ চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলে বিএসএফ পুরোপুরি পিছু হটে এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়। গত সোমবারের সিলেট সীমান্তের ঘটনাটি প্রমাণ করে, পরিবর্তিত বাংলাদেশের বিজিবি ও বীর জনতার ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ ভারতের একতরফা আগ্রাসী নীতিকে সীমান্তে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

The post সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ তুমুল গোলাগুলি: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গর্জে উঠল বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/1869/feed 0