চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের মারধরের অভিযোগে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ অবরোধ শুরু হয়। পরে উপাচার্যের আশ্বাসে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি মেরিন সায়েন্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোলচত্বর থেকে অটোরিকশায় ১ নম্বর গেটে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হলে এর প্রতিবাদ করেন মেহেদী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চালক তাঁর ওপর হামলা চালান।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, আহত শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বিকেল চারটায় ছবি: প্রথম আলো
মুখ, হাত, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হন।
শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান—অভিযুক্ত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার, ১ নম্বর গেট থেকে মূল ফটক পর্যন্ত চক্রাকার বাস চালু এবং ১ নম্বর গেটে পুলিশ বক্স স্থাপন। উপাচার্য এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঞা বলেন, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অটোরিকশাচালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। তিনি জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আবারও আন্দোলনে নামবেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.