২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় এবার মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
রাজধানীর সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফল হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার ৮৪। গত কয়েক বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবার ফল প্রকাশের সময় ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর আরও ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসে এবং তাঁরাও জিপিএ-৫ অর্জন করেন। সব মিলিয়ে ওই বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছিল।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম।
তবে শুধু জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক সাফল্য কিংবা শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, পাসের হার এবং বোর্ডভিত্তিক সাফল্যের পরিসংখ্যানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল দেখতে পারবেন। এ জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
অনলাইনে ফলাফল দেখার জন্য দুটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।
ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর পরীক্ষার নাম, পরীক্ষার বছর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, রোল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল অনুসন্ধান করতে হবে। তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট করলেই ফলাফল দেখা যাবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফলাফল ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশ করতে পারবে।
যেসব শিক্ষার্থীর কাছে ইন্টারনেট সুবিধা নেই, তাঁরাও সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবেন।
এ জন্য যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে নির্ধারিত নম্বরে একটি খুদে বার্তা পাঠাতে হবে।
এসএমএস পাঠানোর নিয়ম:
প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে যেতে হবে।
এরপর পরীক্ষার নাম, বোর্ডের সংক্ষিপ্ত নাম, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখতে হবে।
সবশেষে বার্তাটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ: HSC DHA 123456 2026
এখানে DHA-এর জায়গায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে কিংবা প্রত্যাশিত নম্বর না পেলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর পূর্বঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
এ সময়ের মধ্যে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের পদ্ধতি, ফি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে সাধারণত আর আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখের বেশি।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী এবং বাস্তবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এবারের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনার জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। যারা ভালো ফলাফল করেছেন, তাঁদের জন্য নতুন শিক্ষাজীবনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলাফল সংগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সঠিক রোল নম্বর, বোর্ডের নাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.