ঢাকা: রাজধানীর আদাবরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযানে দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাতের শেষভাগে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকার খালপাড়ে এ অভিযান চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ৬ নম্বর শেখেরটেক এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারের কাছাকাছি মেলার মাঠের পেছনের খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছে।
তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে দেখতে পাওয়া যায়। তাদের ঘিরে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ওসি জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা ধারালো চাপাতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের সঙ্গে থাকা শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিতে দুজনের পায়ে আঘাত লাগে। পরে ঘটনাস্থল থেকে আহত দুজনসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়। অন্য কয়েকজন সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রাজিব ও সাগর নামে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রাজিব হাওলাদার মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ছাড়া সাগর ওরফে ছোট বিগারের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যেও একাধিক মামলার আসামি রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শাকিব ও রাশেদ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে বলে পুলিশের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েক ধরনের ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্টিলের চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্রের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, ৬ নম্বর শেখেরটেকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালানো হয়। এতে দুজন আহত হন। তবে পুলিশের এই বক্তব্যের বাইরে অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে ডিএমপির নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র বহনের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়।
আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকা রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এসব এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। নবোদয় হাউজিংয়ের এই অভিযানও একটি নির্দিষ্ট মামলার আসামিদের অবস্থান শনাক্তের পর পরিচালিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আগে থাকা মামলাগুলোর বিষয়েও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ রাজিব ও সাগরের চিকিৎসা এবং তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরবর্তী তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আহতদের চিকিৎসা শেষে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে হামলার অভিযোগ, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই করা হবে।
এদিকে রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কিংবা পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।
আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ে রাতের এই অভিযানের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০ জনের বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা করা হচ্ছে এবং তাদের আগের মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.