জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের ফসল উৎপাদনে সঠিকভাবে সার ব্যবহারে পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকের জমিতে সরাসরি গিয়ে ফসলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ, জমির প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং কৃষকের সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের জমি পরিদর্শন করছেন। এ সময় জমির মাটির অবস্থা, চাষ করা ফসল, ফসলের বৃদ্ধি ও বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জমিতে কোন ধরনের সার কতটা প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, ফসলের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলে যেমন উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, তেমনি জমির স্বাভাবিক উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে কম সার ব্যবহার করলেও ফসলের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি ও ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জমি ও ফসলের প্রয়োজন বুঝে পরিমিত ও সঠিক পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিষয়টি সামনে রেখে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাঠে গিয়ে সরাসরি পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকদের শুধু সার ব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া নয়, বরং ফসলের সামগ্রিক পরিচর্যা ও উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক সময় ফসলের ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা নিজেদের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের সার প্রয়োগ করেন। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। আবার সঠিক সময়ে সঠিক ধরনের সার প্রয়োগ না করার কারণেও ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না।
কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে এসব বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করছেন। জমিতে গিয়ে ফসলের অবস্থা দেখানোর কারণে কৃষকরা নিজেদের জমির জন্য কী ধরনের পরিচর্যা প্রয়োজন, তা তুলনামূলকভাবে সহজে বুঝতে পারছেন। ফলে সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কৃষকদের কাছে গিয়ে তাদের জমির অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুপারিশ করা হচ্ছে। কৃষক যেন তার জমির চাহিদা অনুযায়ী সার পান এবং সঠিক নিয়মে তা ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনভিত্তিক পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনছেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতি তাদের জন্য বেশ সহায়ক হচ্ছে। জমির ফসল দেখে কর্মকর্তারা পরামর্শ দেওয়ায় সার ব্যবহারের বিষয়ে অনেকের বিভ্রান্তি কমছে। বিশেষ করে কোন সার কখন এবং কী পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে সরাসরি ধারণা পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে।
কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় কৃষকরাও। তাদের মতে, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে জমিতে এসে ফসলের অবস্থা দেখে পরামর্শ দিলে উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সারসহ কৃষি উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।
সুন্দরগঞ্জে কৃষিনির্ভর মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কৃষকের উৎপাদন ব্যয়, জমির স্বাস্থ্য এবং ফসলের ফলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কৃষকের জমির বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে সার ব্যবহারে ভারসাম্য আনা সম্ভব। এতে কৃষক একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় সার ব্যবহারের খরচ থেকে বাঁচতে পারেন, অন্যদিকে ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও সহজ হয়।
মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কৃষকদের সঙ্গে সরকারি কৃষি কর্মকর্তাদের যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি কৃষকের সমস্যাগুলো সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় কৃষির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত পরামর্শ দেওয়াও সহজ হবে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, শুধু সার ব্যবহারের পরামর্শ নয়, ফসলের রোগবালাই, সেচ, উন্নত জাতের বীজ, কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কেও নিয়মিত মাঠভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হবে। এতে কৃষকরা নিজেদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে আরও পরিকল্পিতভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে সুন্দরগঞ্জে কৃষকের জমিতে সরাসরি গিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সুপারিশ দেওয়ার উদ্যোগ কৃষকদের সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় উৎসাহিত করছে। জমি ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.