ববি সংবাদদাতা
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত জনগণ ভালোভাবে নেবে না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘জুলাই-৩৬ কুইজ প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় বিএনপি সরকারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “একটি কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা এখন দিল্লিতে আছেন। আর ভাইবা ইস্যুতে, জনগণ আপনাদের কোথায় পাঠাবে তা টেরও পাবেন না। ফলে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।”
সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নেক্কারজনকভাবে আমরা গত দুই দিন আগে দেখতে পেলাম, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর ৫০ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব এসেছে। অথচ তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ভাইভা হচ্ছে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার একটি সুযোগ। তারা যখন সরকারে এসে এখন উল্টো পথে যাচ্ছে, তখন আমরা তাদের সতর্ক করে দিতে চাই—আপনারা এই কাজটি ভুলেও করবেন না।”
পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, “কোনো সরকার যদি মনে করে পুরোনো পদ্ধতিতে, পুরোনোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তাহলে সেই সরকার বাংলাদেশে তার মেয়াদ শেষ করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গত দুই বছরে মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পাশাপাশি হতাশাও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা জনগণকেই মূল্যায়ন করতে হবে।
তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের রাজপথে না নামার ধারণা থাকলেও গণঅভ্যুত্থানে তারাই রাজপথে জীবন দিয়েছেন। অথচ তাদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বদলে ভাইভায় দলীয় নিয়োগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে তাদের বেকারত্ব ও হতাশার মধ্যে রেখে দেওয়ার কোনো সুফল নেই বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের পাশাপাশি তরুণদের চাকরি, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর গুরুত্ব
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী ধরনের গ্র্যাজুয়েট ও গবেষক তৈরি হবে, তা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, বরিশাল অঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়া, আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখার সক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়টির তৈরি করতে হবে। যথাযথ পরিকল্পনা করা হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে এ অঞ্চলের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা উচিত। এটা ছাড়া যদি আমরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারি, যেখানে রাষ্ট্রের সত্যিকারের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থাকবে, তাহলে দেশের অনেক বেশি উপকার হবে। কিন্তু যদি আমরা ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশ্ববিদ্যালয় করি, তাহলে সেটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত সুফল দেবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশের দাবি
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন মত ও চিন্তার মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন নাহিদ ইসলাম। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের মত প্রকাশ এবং কর্মসূচি পালনের সুযোগ দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অধিকার উল্লেখ করে তিনি দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি বলেন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন, খাবার, আবাসন, পড়াশোনা এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. বেলাল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, মহিউদ্দিন রনিসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.