প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন—এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে কবে সফরটি অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে এ বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই। ফলে সফরের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ভারত সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে সফরের তারিখ নির্ধারণ না হওয়ায় এখনই বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে এ সফর হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির পর ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোতে পারে।
এদিকে গত ২৯ আগস্ট ভারতে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি সভা পুলিশের হস্তক্ষেপে বাতিল হওয়ার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিয়েছে, বাংলাদেশ সেটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া কিংবা ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বিভিন্ন অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো দেশের ভূখণ্ড যেন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো দুষ্কৃতকারীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেবে না। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতকারীকে ভারতও আশ্রয় দেবে না—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, অপরাধীরা যাতে সীমান্ত পার হয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে নিরাপদ অবস্থান তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গও উঠে আসে।
হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো ধরনের চাপের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। বরং দেশের নিজস্ব প্রয়োজন, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন, নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা এবং রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা, সীমান্তপারের অপরাধীদের বিষয়ে সহযোগিতা এবং বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব—একই দিনে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বিশেষ করে ভারত সফর নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ায় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় সামনে আসতে পারে। তবে সফরের তারিখ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচি বা বৈঠকের তালিকা প্রকাশের সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও এর সময়সূচি এখনো আলোচনাধীন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে সফরটি হচ্ছে না—এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ফলে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ভিত্তিতে সফরের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অপরাধী ও পলাতকদের বিষয়ে সহযোগিতা এবং কোনো দেশ যাতে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত না হয়, সেই নীতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.