ঢাকা: দেখতে দেখতে দুই বছর পূর্ণ হলো ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে শেখ হাসিনার নির্দেশে পরিচালিত বর্বর গণহত্যার বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দুটি ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৬টি আলোচিত মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। এতে ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী, আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে বিচারে এই সার্বিক অগ্রগতির পরও সার্বিক বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে শহীদ পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মনে পুঞ্জীভূত হচ্ছে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক শহীদ মীর মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসীম, গোলাম নাফিজ এবং আসহাবুল ইয়ামিনের মতো বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ এখনও চার্জ গঠন ও প্রাথমিক শুনানি প্রক্রিয়াতেই আটকে রয়েছে। শত শত মামলার তদন্ত কাজ থমকে থাকায় স্বজনরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে সময়মতো ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে কি না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ট্রাইব্যুনাল-২ এ জুলাই গণহত্যার সাতটি বড় মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এসব মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কামরুল ইসলাম, আমির হোসেন আমু, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ গুরুত্বপূর্ণ ৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার গণহত্যার ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলাতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়ে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত যে ৬টি মামলার রায় এসেছে, তার মধ্যে শীর্ষ রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া ছাড়া শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ঘাতক চক্রের প্রধানদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর মধ্যে বণ্টনের নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৫ জনকে কারাদণ্ড ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত ৬১ জন আসামির মধ্যে ৪০ জনই এখনও পলাতক, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন আসামি রয়েছেন।
সারাদেশে দায়ের হওয়া প্রায় ৫৯০টি গণহত্যার অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। বিচারে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জাগা সংশয় দূর করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর আশ্বাস দিয়েছেন যে, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই নির্ধারিত সময় ব্যয় হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাই গণহত্যার সব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দৃঢ় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.