ঢাকা: শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা বন্ধ না হলে সরকারের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। ছাত্রদল যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে সশস্ত্র হামলা ও সন্ত্রাস শুরু করেছে, তা অনতিব্লিমে বন্ধ করা না হলে এই সরকারের পরিণতি বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়েও ভয়ানক হবে বলে সতর্ক করেছেন বক্তারা।
বুধবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক বিশাল 'ছাত্র গণজমায়তে' এসব কথা বলেন জামায়াত ও শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। 'গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গণঅভ্যুত্থানের সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে' এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যারা তাণ্ডব চালিয়েছে তারা মূলত অছাত্র, বহিরাগত ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী। ছাত্রদলের পদধারী নেতাদের অনেকেরই ছাত্রজীবন এক-দেড় দশক আগে শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাদের 'আদুভাই' বলে আখ্যা দেন। এসব বহিরাগতদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে এনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রাফিক্স আর্টস কলেজ এবং ঢাকা আলিয়ায় ঘুমন্ত শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
শিবির সভাপতি আরও বলেন, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব এবং পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণেই এসব সন্ত্রাসী বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। কমিশনার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হামলাকারীদের হাতে রিভলভার, চাপাতি ও রামদা দেখা গেলেও পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফ্যাসিবাদের পুনর্জাগরণের হাতিয়ার না হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন শিবির প্রধান।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন হলেও ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও গণরুম সংস্কৃতি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ছাত্রদল। ডাকসু ও অন্যান্য ছাত্রসংসদ নির্বাচনে তাদের আদর্শিক পরাজয় ঘটায় এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বিগত শেখ হাসিনা সরকারের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম এমপি এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ছাত্রদলের লাগাম টেনে ধরতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রলীগের ক্যাডার রাজনীতি যেভাবে শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করেছিল, একই পথ অনুসরণ করলে ছাত্রদলও বর্তমান রাজনীতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রপ্রতিনিধি ও হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.