গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের পক্ষ থেকে সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমকে ‘ভুয়া’ ও ‘বানোয়াট’ গণমাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে প্রশ্ন তুলেছে সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ।
সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে বিষয়টি নিয়ে তাদের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেটি শুধু তাদের নিজস্ব প্রতিবেদন নয়। একই বিষয় নিয়ে দেশের প্রথম সারির একাধিক গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে একই ঘটনা বা বিষয় নিয়ে একাধিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করার পর শুধু সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমকে ‘ভুয়া’ বা ‘বানোয়াট’ হিসেবে আখ্যায়িত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এমপি মাজেদুর রহমানের অফিসিয়াল এডমিন ফেসবুক পেজ থেকে সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমকে ‘ভুয়া’ ও ‘বানোয়াট’ গণমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো সংবাদে তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের কাছে প্রতিবাদ জানানো বা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশোধনের দাবি তোলার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন পছন্দ না হলেই সেটিকে ‘ভুয়া’ বা ‘বানোয়াট’ বলে আখ্যায়িত করা দায়িত্বশীল আচরণ কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্বাধীন, সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বের কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
এই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার কথা বলা হলেও অন্যদিকে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া’ বা ‘বানোয়াট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমের দাবি, তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকলে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা খণ্ডন করা যেতে পারে। কিন্তু একই বিষয়ে দেশের একাধিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করার পর শুধু একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য করা হলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কোনো সংবাদকে ভুল বা মিথ্যা দাবি করতে হলে নির্দিষ্ট তথ্য, নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা প্রয়োজন। একইভাবে, সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্ব হলো যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা। এই দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলে তা যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে সমাধান হওয়াই প্রত্যাশিত।
সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের সংবাদ প্রকাশের আগে ও পরে একই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে তাদের সংবাদকে এককভাবে ‘ভুয়া’ বা ‘বানোয়াট’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে।
তবে এ বিষয়ে এমপি মাজেদুর রহমানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য বা নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে আসা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংবাদ প্রকাশের অধিকার এবং সংবাদ নিয়ে জবাবদিহিতা—এই তিনটি বিষয় গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানোই গ্রহণযোগ্য পন্থা। একইভাবে সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা।
এখন প্রশ্ন হলো, একই বিষয়ে দেশের একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শুধু সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমকে কেন ‘ভুয়া’ ও ‘বানোয়াট’ বলা হলো? এই প্রশ্নের উত্তরেই হয়তো পুরো বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
[caption id="attachment_2744" align="alignnone" width="498"] সুন্দরগঞ্জ গণমাধ্যমকে ‘ভুয়া’ ও ‘বানোয়াট’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।[/caption]
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.