রাজধানীর মিরপুরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোরে মার্কেটের দুটি নামী জুয়েলারি দোকান থেকে প্রায় ২৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর থেকে মার্কেটে দায়িত্বরত পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশি তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরাই এই সুপরিকল্পিত অপরাধে সরাসরি জড়িত।
রাজধানীর দারুস সালাম থানা সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর আনুমানিক ৫টা ৫৬ মিনিটের দিকে। শপিং কমপ্লেক্সটির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত 'আল রাজ্জাক জুয়েলার্স' এবং সংলগ্ন 'এ হোসেন জুয়েলার্স'—এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছক কষে অপরাধীরা। চোরচক্র অতি নিখুঁতভাবে দুটি দোকানের তালা ও সুরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে ভেতরের মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন আল রাজ্জাক জুয়েলার্স থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এই দোকানটি থেকে প্রায় ২০০ ভরি সোনা চুরি হয়। অপরদিকে, ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের মালিকানাধীন এ হোসেন জুয়েলার্স থেকে লুট করা হয়েছে প্রায় ৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার।
দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন এই ঘটনাকে একটি 'সুপরিকল্পিত চুরি' বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পাশাপাশি দোকানের ভেতরের ও মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট দেখা গেছে, যেসব নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর মার্কেটের সুরক্ষার ভার ছিল, তাঁরাই অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় চুরির প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ পাঁচ গার্ডের বাইরেও আরও ৩ থেকে ৪ জন বাইরের অজ্ঞাত ব্যক্তি এই চক্রে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, মার্কেটের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরীদের পাশাপাশি জুয়েলারি মালিকদের তরফ থেকেও আলাদা একজন নিরাপত্তাকর্মীকে পাহারায় রাখা হয়েছিল। অপরাধীরা সেই প্রহরীকে বশ করতে এক ভয়াবহ কৌশল অবলম্বন করে। তাকে খাবারের বা মিষ্টির সঙ্গে শক্তিশালী চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই চোরচক্রটি দুটি দোকান ফাঁকা করে চম্পট দেয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম এবং গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় বাদী হয়ে ভুক্তভোগী দোকান মালিকদের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং চুরি হওয়া ২৫৯ ভরি স্বর্ণালংকারের কোনো অংশ উদ্ধার করা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীর নাম-ঠিকানা ও প্রযুক্তিগত নজরদারির ওপর ভিত্তি করে তাঁদের অবস্থান শনাক্তের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া অপরাধীদের চেহারা এবং নিখোঁজ প্রহরীদের তালিকা ধরে দেশের বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
মিরপুরের মতো ব্যস্ত ও সুরক্ষিত একটি বাণিজ্যিক এলাকায় এই ধরনের চুরির পর স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও জুয়েলার্স মালিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও চুরি যাওয়া সম্পদ উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.