পূর্বশত্রুতার জেরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে রাতের আঁধারে একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। চার বছর ধরে সযত্নে গড়ে তোলা বাগান এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মালিক মাজেদুল ইসলাম। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পর প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী বাগান মালিক মাজেদুল ইসলাম জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উন্নত জাতের ৩৫০টি আমের চারা সংগ্রহ করে প্রায় চার বছর আগে তিন বিঘা জমিতে বাগানটি গড়ে তোলেন তিনি। দীর্ঘদিন পরিচর্যার পর বাগানের অনেক গাছেই চলতি মৌসুমে আম ধরতে শুরু করেছিল।
তবে শুক্রবার মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাগানে ঢুকে গাছ কাটার ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাতের আঁধারে তারা বাগানের ২৯৬টি আমগাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলে। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বাগান ধ্বংস অবস্থায় দেখতে পান মালিক।
মাজেদুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো তাঁর সন্তানের মতো ছিল। দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিচর্যা করে গড়ে তোলা বাগান থেকে তিনি ভবিষ্যতে ভালো ফলনের আশা করছিলেন। কিন্তু এক রাতের ঘটনায় তাঁর সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বাগান ধ্বংসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান দুলালসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমবাগানের গাছ কাটার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে প্রধান আসামি খলিলুর রহমান দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গাছ কাটার পেছনে পূর্বশত্রুতা, বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি ফলের বাগান গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। বিশেষ করে আমগাছ ফলন দেওয়ার উপযোগী হতে কয়েক বছর সময় লাগে। ফলে এক রাতের মধ্যে শত শত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় বাগান মালিকের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে বাগান মালিকের দীর্ঘদিনের শ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
[caption id="attachment_2693" align="alignnone" width="995"] নবাবগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।[/caption]
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.