রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানাধীন এলাকায় এক নারীর ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল মুহূর্তের গোপন ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি, অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়াবহ হুমকির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় এই অপকর্মটি ঘটে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে হারাগাছ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
অভিযোগ প্রাপ্তির সাথে সাথেই হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুব রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। মামলার প্রাথমিক ও প্রধান অভিযুক্ত এমদাদুল হককে (৩২) তার নিজ বাসস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হলে ঘটনার নেপথ্যে থাকা তার সহযোগী তথা প্রতিবেশী ভাতিজা মোকারেম মোকার (২০) নাম ও সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে। এমদাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মোকারেমকেও আটক করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জিজ্ঞাসাবাদে মূল ঘটনা ও অপরাধের ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে আটককৃতরা। আসামি মোকারেম জানায়, আনুমানিক সাত মাস আগে ভুক্তভোগী নারী নিজ বাড়ির বাথরুমে গোসল করার সময় অত্যন্ত নিখুঁত ও গোপনে নিজের মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য রেকর্ড করে সে। দীর্ঘ সময় ভিডিওটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করার পর অতি সম্প্রতি সেটিকে কেন্দ্র করে ব্লাকমেইলিং শুরু করে।
চলতি বছরের ২০ জুলাই বিকেলে মোকারেম ধারণকৃত ভিডিওটি ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠায়। ভিডিওটি দেখার পর এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার মারাত্মক ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। তবে ভুক্তভোগী নারী অপরাধীর এই অবৈধ দাবিতে কোনো রকম সাড়া না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।
টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে মোকারেম ভিডিওটি তার প্রতিবেশী চাচা এমদাদুল হকের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেয় এবং তাকেও এই অপরাধচক্রে যুক্ত করে। এরপর গত ২২ জুলাই গভীর রাতে এমদাদুল হক নিজ মোবাইল থেকে ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওটি পুনঃপ্রেরণ করে এবং ভিডিওটি ডিলিট করার বিনিময়ে তার সঙ্গে অনৈতিক ও যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, দুই আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি উদ্ধার ও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। উভয় ফোনেই ভুক্তভোগী নারীর গোপন ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হুমকিমূলক বার্তা ও অনৈতিক মেসেজের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জব্দকৃত ডিজিটাল আলামতগুলো মামলার শক্ত প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রংপুর আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক আবু সাঈদ চৌধুরী। সাইবার অপরাধ ও নারীদের হেনস্তা রোধে পুলিশের এমন দ্রুত পদক্ষেপ এলাকায় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.