চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় একটি ড্রেন বা নালা পরিষ্কারের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের গুলি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তৎপরতায় একটি রহস্যময় বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ১ হাজার ৩৫০টি বুলেটের সামনের অংশ (হেড বা অগ্রভাগ)। ঘটনাটি স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বেশ আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ উদ্ধারকৃত গুলির একটি বড় অংশই একে-৪৭-এর মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মারণাস্ত্রে ব্যবহার উপযোগী।
শনিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বায়েজিদ বোস্তামী থানার অন্তর্গত শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় দৈনন্দিন বর্জ্য অপসারণের কাজ করছিলেন। স্থানীয় বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন নালা পরিষ্কারের সময় নর্দমার পানিতে একটি প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
ময়লা তোলার সময় বস্তাটি অস্বাভাবিক রকমের ভারী মনে হলে কর্মীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে কৌতুহলবশত বস্তার মুখ খুলতেই ভেতরে ছোট-বড় অসংখ্য মেটালিক বস্তু দেখতে পান তারা। বিষয়টি নিখাদ বুলেট নিশ্চিত হওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিকটস্থ বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানটি কর্ডন করে এবং বস্তাবন্দি বুলেটগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের গণনানুযায়ী উদ্ধার হওয়া বস্তা থেকে সর্বমোট ১,৩৫০টি ধাতব বুলেট উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও সামরিক সরঞ্জামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত বুলেটের মধ্যে ১২০টি বেশ বড় আকারের এবং অবশিষ্ট ১,২৩০টি অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুসারে, বড় আকারের ১২০টি বুলেট মূলত একে-৪৭-এর মতো অতি সংবেদনশীল ও ভারী স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্রের জন্য তৈরি। অন্যদিকে, ছোট আকারের ১,২৩০টি বুলেট সাধারণত বিভিন্ন সাব-মেশিন গান (এসএমজি) কিংবা উচ্চমানের প্রসেসড রাইফেল থেকে ফায়ার করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
উদ্ধারকৃত গোলাবারুদ নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সামরিক কিংবা বেসামরিক সাধারণ অস্ত্রের প্রতিটি বুলেটের মূলত প্রধান দুটি অংশ থাকে। একটি হলো কার্তুজ বা ‘খোসা’ (ক্যাপসুল), যার ভেতরে গানপাউডার থাকে এবং অন্যটি হলো ‘বুলেট হেড’ বা অগ্রভাগ—যা ফায়ারিং পিন আঘাত করার পর স্প্লিন্টার বা বুলেট হিসেবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে গিয়ে আঘাত হানে।
ড্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া ১,৩৫০টি বস্তুই বুলেটের সামনের অংশ বা হেড। তবে এগুলো আগে ব্যবহার করা হয়েছিল নাকি ফায়ার না করেই কোনো উদ্দেশ্যে নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কিত স্পষ্ট তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধারের ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক মারণাস্ত্রে ব্যবহৃত বুলেটের অংশ কোত্থেকে এলো, কোনো অপরাধ চক্র কিংবা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী এখানে এগুলো ফেলে গেছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, সংগৃহীত বুলেটগুলোর সঠিক ধরন, তৈরি হওয়ার সম্ভাব্য উৎস এবং এগুলো পূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তা বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষার জন্য রোববার সামরিক বিশেষজ্ঞ দলের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ব্যালেস্টিক ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের সূক্ষ্ম পরীক্ষার পরই বেরিয়ে আসবে এই চাঞ্চল্যকর বুলেটের পেছনের রহস্য।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.