নয়াদিল্লি: ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট)-র প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থা আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকারকে স্পষ্ট ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বা আলটিমেটাম দিয়েছে দলটি। তাদের পরিষ্কার বার্তা—শিক্ষামন্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় পদ সরে না যান কিংবা তাঁকে অপসারণ না করা হয়, তবে তারা আবারও ‘চলো সংসদ’ অর্থাৎ সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করবে।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে নতি স্বীকার না করার অবস্থানে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন মোদি সরকার। সরকারি মহলের মতে, আন্দোলনের চাপে কোনো মন্ত্রীকে অপসারণ করা হলে তা ভবিষ্যতে সরকারের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে।
"আজ যদি কোনো আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর চাপে পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে আগামীকাল অন্য কোনো গোষ্ঠী নতুন কোনো মন্ত্রীর অপসারণ চাইতে পারে।" — জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র
পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার ‘কনস্টিটিউশন ক্লাবে’ সিজেপির শীর্ষ প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই প্রবীণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। বৈঠকে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়ে নেন মন্ত্রীরা। আজ শনিবার আবারও দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকার আন্দোলনকারীদের দুটি বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করছে:
মামলা প্রত্যাহার: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
ক্ষতিপূরণ বিবেচনা: প্রশ্নফাঁসের কারণে হতাশা থেকে আত্মাহুতি দেওয়া পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখবে জেলা প্রশাসন। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি অনুযায়ী এককালীন ১ কোটি রুপি দেওয়ার ব্যাপারে সরকার কোনো আগাম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।
[caption id="attachment_2633" align="alignnone" width="339"] প্রশ্নপত্র ফাঁস–কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে আসা এক শিক্ষার্থী ক্লান্ত হয়ে মায়ের কোলে শুয়ে পড়েছে। সন্তানদের সঙ্গে বহু অভিভাবক বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেনফাইল ছবি: রয়টার্স[/caption]
প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দায় ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করেছে ভারত সরকার। পাশাপাশি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জালিয়াতি রুখতে সর্বোচ্চ ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানা ও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অন্যায় পদ্ধতি প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪’-এর সংশোধনী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শিক্ষার্থীদের এই কঠোর অবস্থানের কারণে ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সংসদ কক্ষে আলোচনার আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে। ফলে অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহ বলতে গেলে পুরোপুরি অচল ছিল। এই বাধা এড়াতে সরকার প্রশ্নোত্তর পর্ব এড়িয়ে সরাসরি কঠোর সংশোধনী বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই গণবিক্ষোভের কারণে একদিকে শিক্ষার্থীরা যেমন ক্ষুব্ধ, অন্যদিকে নীতিগত অবস্থান ধরে রাখতে অনড় প্রশাসন—যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যকার চলমান এই জটিলতা কোন দিকে মোড় নেয়, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হবে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.