বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ওপর নির্ভর করে, ব্যাপারটি এমন নয়। শহরের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান কেমন শিক্ষার্থীদের কাছে এগুলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এসব দিক বিবেচনা করে বিদেশি শিক্ষার্থীরা কোনো শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রতিবছর উচ্চশিক্ষায় বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করে। ২০২৭ সালের তালিকাও প্রকাশ করেছে। কিউএস ২০২৭ সালের তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শীর্ষে আছে। ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়েও সেরা ছিল শহরটি। দ্বিতীয় স্থানেই আছে টোকিও (গত বছরেও দ্বিতীয়)। র্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে পরপর দুই বছর শীর্ষ দুই শহরই এশিয়ার। এবারের তালিকায় ২০২৫ সাল শীর্ষস্থানে থাকা লন্ডন তৃতীয় স্থানে আছে। ক্রম অনুসারে সেরা দশের বাকি শহরগুলো হলো—মেলবোর্ন, মিউনিখ, সিডনি, প্যারিস, বার্লিন, ভিয়েনা ও জুরিখ। .কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) এই র্যাঙ্কিং তৈরি করেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভিত্তিতে শহরগুলোর মূল্যায়ন করে। যেমন আকর্ষণীয় শহর, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণমান, শিক্ষার্থীদের মধ্য বৈচিত্র্য, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ।কিউএস বেস্ট স্টুডেন্ট সিটিজ ২০২৭-এর সেরা ১০ শহর১. সিউল—দক্ষিণ কোরিয়া, স্কোর ১০০২. টোকিও—জাপান, স্কোর ৯৮৩. লন্ডন—যুক্তরাজ্য, স্কোর ৯৭.৩৪. মেলবোর্ন—অস্ট্রেলিয়া, স্কোর ৯৪.৮৫. মিউনিখ—জার্মানি, স্কোর ৯৪.১৬. সিডনি—অস্ট্রেলিয়া, স্কোর ৯৪.১৭. প্যারিস—ফ্রান্স, স্কোর ৯২.৫৮. বার্লিন—জার্মানিস্কোর ৯১.৮৯. ভিয়েনা—অস্ট্রিয়া, স্কোর ৯০.৯১০. জুরিখ—সুইজারল্যান্ড, স্কোর ৯০.৬.জার্মানিতে স্কলারশিপ, মাসিক ভাতাসহ যে যে সুবিধা.সেরা দশের বর্ণনা—১. সিউল—টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বজুড়ে ১ নম্বর স্থান ধরে রেখেছে। শিক্ষাগত মান এবং গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির সুযোগের কারণেই শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে আছে শহরটি।২. টোকিও—শিক্ষার্থীদের পছন্দের ২ নম্বরে আছে জাপানের শহরটি। ‘এমপ্লয়ার অ্যাকটিভিটি’ (চাকরিদাতাদের পছন্দ) সূচকে শীর্ষে এবং ‘ডিজায়ারেবিলিটি’ (আকর্ষণীয়তা) সূচকে চতুর্থ স্থানে আছে শহরটি।৩. লন্ডন—ইউরোপের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কপ্রাপ্ত শহরটি তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে।৪. মেলবোর্ন— গতবারের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে শহরটি।৫. মিউনিখ— পঞ্চম স্থানে আছে।৬. সিডনি—অবস্থান ধরে রেখেছে।৭. প্যারিস—বিশ্বের শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় সপ্তম স্থানে আছে শহরটি।৮. বার্লিন—অষ্টম স্থানে আছে শহরটি। যার ফলে শীর্ষ ১০-এ জার্মানির দুটি শহর স্থান পেল।৯. ভিয়েনা—অস্ট্রিয়ার রাজধানী শহরটি সামগ্রিকভাবে নবম স্থানে আছে।১০. জুরিখ—শিক্ষার্থীদের পছন্দের সেরা ১০টি শহরে জায়গা করে নিয়েছে।.যুক্তরাষ্ট্রের হামফ্রে ফেলোশিপ: মাসিক ভাতাসহ ৯ মাস পড়াশোনা, যাদের সুযোগ.আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আধিপত্য দেখা গেল এবারে তালিকায়। এ অঞ্চলের শহরগুলো তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। শীর্ষ দুটি স্থানের (সিউল ও টোকিও) পাশাপাশি সেরা ২০টি শহরের তালিকাতেও এই অঞ্চলের কয়েকটি শহর আছে। শিক্ষার্থীদের পছন্দের অন্য উল্লেখযোগ্য শহরের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর (১১তম), বেইজিং (১২তম, ১৯ ধাপ উন্নতি), তাইপে (১৪তম) এবং কুয়ালালামপুর (১৫তম), কিওটো দুই ধাপ এগিয়ে ১৬তম স্থানে আর হংকং ১৭তম অবস্থান ধরে রেখেছে।চীনের শহরগুলোর অগ্রগতিগত দুই বছরে চীনের শহরগুলোর র্যাঙ্কিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সাংহাই ২৫ ধাপ এগিয়ে ২১তম স্থানে উঠে এসেছে। বেইজিং ১২তম স্থানে উঠে এসেছে। সাংহাই গত দুই বছরে ২৫ ধাপ লাফিয়ে ২১তম স্থানে আছে এবারের তালিকায়। নানজিং এক বছরে ১০ ধাপ এবং দুই বছরে মোট ২৮ ধাপ এগিয়ে ৫৯তম স্থানে উঠে এসেছে। গুয়াংজু আগের বছরের চেয়ে ২৪ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৯৫তম স্থান অর্জন করেছে।.বিশ্বের সেরা ১০ এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম, অক্সফোর্ডসহ শীর্ষে আর কারা.**ইউরোপের মিশ্র ফলাফলশীর্ষ ১০-এ ইউরোপের ভালো উপস্থিতি থাকলেও বেশ কয়েকটি একক শহরের পয়েন্ট কমেছে (যেমন: লিওঁ ১৭ ধাপ নেমে ৭১তম এবং গ্রাৎস ১৮ ধাপ নেমে ১২৪তম স্থানে গেছে)। মন্টেপেলিয়ার ১৩ ধাপ নেমে ১৪৭তম স্থানে দাঁড়িয়েছে।ভারতের অর্জনভারতীয় শহরগুলোর মধ্যে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই সামগ্রিকভাবে শীর্ষে রয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের খরচের সাশ্রয়ের দিক থেকে দিল্লি বিশ্বজুড়ে প্রথম স্থানে আছে।মালয়েশিয়া এবং আসিয়ান (ASEAN) অঞ্চলের অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
Source: https://www.prothomalo.com/education/higher-education/ewgso9cshx
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.