
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও এক বড় পরিবর্তনের হাওয়া। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আজ সোমবার ঐতিহ্যবাহী বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি ব্রিটেনের প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ‘১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে’ প্রবেশ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর খুব শিগগিরই তিনি ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জাতির উদ্দেশে প্রথম বারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।
কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ও বিদায় এর আগে আজ সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে যান। সেখানে তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজকীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে তিনি প্যালেস ত্যাগ করেন।
ডাউনিং স্ট্রিটে বিদায়ী বক্তব্যে কিয়ার স্টারমার তাঁর উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামের আগামী দিনের পথচলা এবং মেয়াদের সফলতা কামনা করেন। রাজনীতিতে ক্ষমতার এই পালাবদলকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে স্টারমার বলেন, “আমি অত্যন্ত সৌজন্যের সঙ্গে, হাসিমুখে এবং আমাদের বিগত দিনের অর্জন নিয়ে সম্পূর্ণ গর্বিত অবস্থায় বিদায় নিচ্ছি।” তাঁর এই বক্তব্য ব্রিটেনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাকিংহাম প্যালেস থেকে ডাউনিং স্ট্রিট কিয়ার স্টারমারের বিদায়ের ঠিক পরপরই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছান। সেখানে ব্রিটেনের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁকে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান। রাজার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকার গঠনের সম্মতি জানান বার্নহ্যাম এবং এর মধ্য দিয়েই তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করেন।
প্যালেসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরাসরি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ডাউনিং স্ট্রিটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাউনিং স্ট্রিটে ইতিমধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে এবং তাঁর প্রথম ভাষণ শোনার জন্য শত শত সমর্থক ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছেন। সেখানে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও তৎপরতা ক্ষমতা হস্তান্তরের এই মাহেন্দ্রে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন সরকারের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। সবার নজর এখন বার্নহ্যামের নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। বিদায়ী সরকারের কতজন সদস্য এই নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন, কিংবা কারা বাদ পড়ছেন—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা ও গুঞ্জন। এরই মধ্যে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চিফ অব স্টাফ কেভিন লি-কে ডাউনিং স্ট্রিটে উপস্থিত হতে দেখা গেছে, যা নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তির ইঙ্গিত দেয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করবেন। ইতিমধ্যেই বিদায়ী সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, যা নতুন সরকারের জন্য পথ সুগম করেছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম পর্যায়ক্রমে ও খুব দ্রুত ঘোষণা করা হবে বলে লেবার পার্টির দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও এক দশকে বড় পরিবর্তন ব্রেক্সিট-পরবর্তী গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে একের পর এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনাটি ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরও একটি মাইলফলক। গত চার বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে তিনি দেশটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করলেন। ঘন ঘন এই নেতৃত্ব পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তেমনি বার্নহ্যামের হাত ধরে লেবার পার্টি দেশের এই সংকট কাটিয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।
আপাতত ডাউনিং স্ট্রিটে ক্ষমতা হস্তান্তরের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বনেতারাও ব্রিটেনের এই নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.