
নোয়াখালী প্রতিনিধি: ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে আবারও মরুভূমির দেশ সৌদি আরব যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। ঠিক আজ সোমবার সকালেই এসেছিল কাঙ্ক্ষিত সৌদি ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদন। কিন্তু সেই সুসংবাদ আর ছুঁয়ে দেখা হলো না ২৫ বছর বয়সী যুবক মো. রায়হানের। তার আগেই চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় নিজ ঘর থেকে এই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মো. রায়হান ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। তিনি বেশ কিছু সময় সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন এবং এর মাত্র এক মাস পর, অর্থাৎ পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সম্প্রতি তিনি আবারও সৌদি আরব যাওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।
রোববার রাতে রায়হানের বাড়ির পাশেই বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। এলাকার অন্য যুবকদের মতো রায়হানও সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষ হতে হতে ভোর হয়ে যায়। রাতে ঘরে না ফিরে বাইরে থাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্বামীর ওপর অভিমান করে স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়ে অন্য কক্ষে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরই ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের (বৈদ্যুতিক পাখা) সঙ্গে রায়হানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত রায়হানের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গভীর রাতে বাইরে থাকা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক অশান্তি ও ঝগড়ার পর তীব্র অভিমানে আবু রায়হান আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কেশারপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইব্রাহিম খলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "রাতে ঘরে না ফেরা এবং খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে রায়হানের মনোমালিন্য ও ঝগড়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরেই রায়হান গলায় ফাঁস দিয়ে থাকতে পারেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে রায়হান সবার বড় ছিলেন। তাঁর বাবাও বর্তমানে সৌদি প্রবাসী।"
রায়হানের এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। আজ সকালেই তাঁর সৌদি আরবের ভিসার কাগজ অনুমোদন হয়ে এসেছিল। নতুন করে উপার্জনের তাগিদে বিদেশ যাওয়ার আনন্দ যেখানে পরিবারে থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। মাত্র পাঁচ মাস আগে শুরু হওয়া একটি নতুন সংসার এভাবে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার জানান, "সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহনন বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।"
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.