
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কিশোর গ্যাং ‘ভইরা-দে গ্রুপে’র বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় পল্লবীর বিভিন্ন স্পটে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই গ্যাংয়ের সন্দেহভাজন আরও পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার অপরাধে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
র্যাব-৪-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল রোববার (৫ জুলাই) রাতে পল্লবীর অ্যাভিনিউ-৫ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অপরাধের খতিয়ান
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া যুবকেরা হলেন—রজ্জব হোসেন (২৩), মেহেদী হাসান ওরফে টুন্ডা হাসান (৩০), আলফাজ আহমেদ আসু (২২), সোহেল রানা (৩৯) ও শাহা পরান (২৩)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা সবাই পল্লবী এলাকায় সক্রিয় এবং কুখ্যাত ‘ভইরা-দে গ্রুপে’র নিয়মিত সদস্য। এদের মধ্যে রজ্জব হোসেন ও মেহেদী হাসান এই গ্যাংয়ের মূল লিডার আশিকের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অনেকের বিরুদ্ধেই আগে থেকে বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পল্লবী ও কাফরুল থানায় দুটি মামলা চলমান। অন্যদিকে, আলফাজ আহমেদ আসুর বিরুদ্ধে পল্লবী থানার একটি মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা ছিল। এছাড়া সোহেল রানার বিরুদ্ধেও পল্লবী থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার করার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের পল্লবী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানোর ফল
র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা সম্প্রতি নিজেদের ভেতর আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য প্রকাশ্যে অস্ত্র ও দলবল নিয়ে মহড়া দেয়। শুধু মহড়া দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি, নিজেদের শক্তির জানান দিতে এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে সেই শোডাউনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক ও টিকটক) ছড়িয়ে দেয়। এই ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই র্যাব-৪ বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আসামিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর রোববার রাতে পল্লবীর অ্যাভিনিউ-৫ এর একাধিক গোপন আস্তানায় একযোগে হানা দিয়ে এই পাঁচ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন র্যাব সদস্যরা।
সোচ্চার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী: কোণঠাসা ‘ভইরা-দে গ্রুপ’
পল্লবী এলাকায় সাধারণ মানুষের শান্তি বিঘ্নিত করার পেছনে এই ‘ভইরা-দে গ্রুপ’ দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তবে র্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে গ্রুপটি এখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। এর আগে গত ৪ জুলাই এবং ১৭ জুনের পৃথক দুটি অভিযানে এই একই অপরাধী চক্রের আরও পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আগের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পারভেজ, টান আকাশ, শিশির আহম্মেদ ইমন, আবদুল্লাহ ও আল আমিন।
র্যাবের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক এই চিরুনি অভিযানের ফলে আলোচিত এই কিশোর গ্যাংয়ের মোট ১০ জন সদস্যকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা র্যাবের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে গ্যাংয়ের মূল হোতা আশিকসহ পলাতক অন্য সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মিরপুরবাসী। র্যাব জানিয়েছে, রাজধানীর কোথাও কোনো কিশোর গ্যাং বা অপরাধী চক্রকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না এবং এই ধরনের সামাজিক ব্যাধি দূর করতে তাদের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.