
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শীর্ষনেতা, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু সংবাদমাধ্যম সুপরিকল্পিত ও ক্রমাগত মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিশেষ করে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণাধীন গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে এই প্রোপাগান্ডার আঙুল তুলেছে দলটি। সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এবং সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে দ্রুত দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক কড়া বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটির দপ্তর সেল। ‘কতিপয় সংবাদমাধ্যমের চরম অপেশাদারত্ব ও সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গভীর উদ্বেগ’ শীর্ষক শিরোনামে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি সংবাদমাধ্যমে প্রেরণ করেন এনসিপির দপ্তর সেলের অন্যতম সদস্য সাদিয়া ফারজানা।
পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একটি নির্দিষ্ট অংশ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গৌরবময় ইতিহাস এবং এই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে চরম অপেশাদার আচরণ করছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি চক্রবদ্ধ প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে এবং সংবাদ পরিবেশনার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো মানদণ্ড তোয়াক্কা না করেই, সম্পূর্ণ প্রমাণ ছাড়াই এই অভ্যুত্থানের প্রথম সারির নেতৃত্বের চরিত্রহননের মতো নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে চিহ্নিত কিছু গণমাধ্যম। দলটির মতে, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী এমন ঘৃণ্য অবস্থান দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এনসিপির বিবৃতিতে বিশেষভাবে বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নাম উল্লেখ করা হয়। দলটির দাবি, এই সংবাদমাধ্যমগুলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নানামুখী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটি গণবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাইয়ের গণহত্যাকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে কিছু সংবাদমাধ্যমের ধারাবাহিক বয়ান তৈরি এবং নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কর্তৃক দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জোরালো ও সাহসী বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। সেই সংসদীয় বক্তব্যের পর থেকেই এই স্বার্থান্বেষী মহলের 'প্রোপাগান্ডা মেশিন' হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও বেশি হিংস্র ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করেই তাঁর বিরুদ্ধে মনগড়া খবর পরিবেশন করা হচ্ছে।
এনসিপি আরও মনে করে, জুলাইয়ের মহান আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অগণিত লাশের ওপর দাঁড়িয়ে যারা খুনি হাসিনার পক্ষে সাফাই গেয়েছিল, ৫ আগস্টের পর তাদের আত্মশুদ্ধি ও সংস্কারের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সেই গণবিরোধী অবস্থানের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করা তো দূরের কথা, ওই সব সংবাদমাধ্যম বা তাদের চিহ্নিত কিছু সংবাদকর্মী এখনো অবলীলায় পুরনো ফ্যাসিবাদের বয়ান পুনরুৎপাদনের ধৃষ্টতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। প্রমাণহীন ও একপেশে সংবাদ প্রকাশের কারণে এসব গণমাধ্যমের ওপর থেকে সাধারণ পাঠক ও দর্শকদের আস্থা এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সমসাময়িক টক শোগুলোর ভূমিকা নিয়েও বিজ্ঞপ্তিতে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। এনসিপি লক্ষ্য করেছে যে, অনেক টক শোতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও গণহত্যাকারী দলের দোসরদের ডেকে এনে তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার এক নতুন উৎসব শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলটি কড়া নির্দেশনাস্বরূপ আহ্বান জানিয়েছে যেন, গণহত্যার পক্ষে কথা বলা কোনো চিহ্নিত ব্যক্তিকে কোনো টক শোতে সঞ্চালক কিংবা আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো না হয়।
সর্বোপরি, দেশের গণমাধ্যম খাতকে কর্পোরেট ও ফ্যাসিবাদী থাবা থেকে মুক্ত করতে এবং এর সামগ্রিক ও কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সম্পূর্ণ শক্তিশালী ও 'স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন' গঠনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.