আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দেখা হতে পারে নকআউট পর্বে এএফপি

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত দ্বৈরথ ‘সুপার ক্লাসিকো’র জন্য মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে বৈশ্বিক ফুটবলের মহোৎসবে। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটের পথ এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে পা রাখায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—কবে এবং কোথায় দেখা হতে পারে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর? টুর্নামেন্টের বর্তমান ড্র এবং সূচি অনুযায়ী, দুই দল যদি তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারা বজায় রাখে, তবে ফাইনালের আগেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে তারা।
অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে আগেই ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। আর গতকাল স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপে সেরা হওয়ায় সেমিফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, মহাকাব্যিক এক সেমিফাইনালে মেসি ও নেইমারের দ্বৈরথ দেখার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কাগুজে সমীকরণে সেমিফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা লড়াই নিশ্চিত মনে হলেও, বাস্তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখতে হলে দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে তিনটি কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ষোলো এবং কোয়ার্টার ফাইনালের অগ্নিপরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পারলেই কেবল ভক্তরা মাঠে দেখতে পাবেন এই ধ্রুপদী লড়াই।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য রোডম্যাপ:
নকআউটের প্রথম ধাপে তথা শেষ ৩২-এ আলবিসেলেস্তেদের মুখোমুখি হতে হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের। এই দৌড়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরবের যেকোনো একটি দল আসতে পারে। এই বাধা পার হতে পারলে শেষ ষোলোতে লিওনেল মেসির দলের সামনে পড়তে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া অথবা বেলজিয়াম। আর কোয়ার্টার ফাইনালে যদি পর্তুগাল পৌঁছাতে পারে, তবে ফুটবল বিশ্ব দেখতে পারে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ—লিওনেল মেসি বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য রোডম্যাপ:
অন্যদিকে, সেলেসাওদের পথটাও খুব একটা সহজ নয়। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের। এই গ্রুপ থেকে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের যেকোনো একটি দল ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে। শেষ ষোলোর মঞ্চে সেলেসাওদের পরীক্ষা নিতে পারে ফ্রান্স বা নরওয়ের মতো শক্তিশালী দল। আর কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ইংল্যান্ডের।
যদি দুই লাতিন পরাশক্তি সব বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারে, তবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি রূপ নেবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহাযুদ্ধে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে এই মেগা ম্যাচ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের দেখা হওয়া মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তবে ইতিহাস বলছে, ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে আর কখনো মুখোমুখি হয়নি এই দুই দল। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মোট চারবার দেখা হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। এর মধ্যে ব্রাজিলের জয় ২টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনা জিতেছে ১টিতে এবং বাকি ১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই দেশের ১০৬টি মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে আলবিসেলেস্তেরা জয় পেয়েছে ৪১টি ম্যাচে, যেখানে সেলেসাওরা জিতেছে ৩৯বার। বাকি ২৬টি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হিসেবে শেষ হয়েছে। এমনকি দুই দলের শেষ চারবারের দেখায় তিনটিতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, গ্রুপ পর্বের দারুণ ছন্দ ধরে রেখে নকআউট পর্বের বৈতরণী পার হয়ে ১৫ জুলাই আটলান্টার মাঠে দুই দল সুপার ক্লাসিকোর জন্ম দিতে পারে কি না।