ব্রাজিলের অনুশীলনে নেইমার-রয়টার্স

খেলাধুলা ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বে সেলেসাও ভক্তদের জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দের খবর আর কী হতে পারে! দীর্ঘ এক প্রতীক্ষার পর অবশেষে অবসান ঘটতে যাচ্ছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। আবারও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে সবুজ গালিচায় বুটের জাদু দেখাতে প্রস্তুত নেইমার জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই তিনি জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করছেন, এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছিলেন ব্রাজিলের ডাগআউটের চাণক্য কার্লো আনচেলত্তি। তবে ভক্ত-সমর্থক এবং ফুটবল মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যিনি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মাঠের বাইরে এবং প্রায় তিন বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলেননি, তাকে প্রথম দিনেই কতক্ষণের জন্য মাঠে নামাবেন কোচ?
চলমান বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যদিও গাণিতিকভাবে এখনো নকআউট পর্ব পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি, তবে টেবিলের শীর্ষস্থান ও বর্তমান ফর্মের কারণে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই নামবে সেলেসাওরা। আর এই তুলনামূলক স্বস্তির ম্যাচেই এখন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর সমস্ত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নেইমারের এই বহুল প্রতীক্ষিত ফেরা।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। তিনি বলেন, “নেইমার মাঠে নামার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই সপ্তাহে সে দলের সাথে দারুণ অনুশীলন করেছে এবং ম্যাচের জন্য নিজেকে খুব ভালোভাবে তৈরি করেছে। আমরা সবাই তার ফেরায় অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা জানি তার যে ফুটবলীয় স্কিল ও গুণগত মান রয়েছে, তা দলকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে এবং নতুন কিছু উপহার দিতে সক্ষম।”
নেইমারের চোটের ইতিহাস অবশ্য বেশ দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলার সময় তিনি সর্বশেষ নতুন করে চোটের কবলে পড়েন। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর অনুপস্থিতি আরও দীর্ঘ। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সময় মারাত্মক এক চোটের শিকার হন তিনি। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং চোটের ধকল সামলে আর জাতীয় দলে ফেরা হয়নি এই পোস্টার বয়ের। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, চোট কাটিয়ে ওঠা এই তারকাকে প্রথম ম্যাচেই পুরো সময় খেলানোর ঝুঁকি নেবেন কি না কোচ? এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট বা সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেলেও আনচেলত্তি যা বলেছেন, তাতে ভক্তদের মনে আশার আলো জ্বলতেই পারে।
ব্রাজিল কোচের কথায় স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে যে, শারীরিকভাবে ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট আছেন নেইমার। তিনি আরও যোগ করেন, “সে চাইলে পুরো ৯০ মিনিটও খেলতে পারে। সে এখন খুব ভালো কন্ডিশনে আছে এবং মাঠে ফেরার জন্য প্রচুর কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার ট্রেনিং সেশনগুলো খুবই চমৎকার ছিল। নেইমারকে এই অবস্থায় দেখে কোচ হিসেবে আমি সত্যিই অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর চারটায় হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল। ম্যাচটিতে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় আকর্ষণের নাম এখন নেইমার। মাঠের বাঁ প্রান্ত দিয়ে তাঁর সেই চেনা দৌড়, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানানোর ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিং দেখার জন্য কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে গ্যালারি। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে নেইমার তাঁর প্রত্যাবর্তনকে কতটা স্মরণীয় করে রাখতে পারেন!