ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে আছেন নেইমার। সিবিএফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক: হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর ব্রাজিল ফুটবল দলে বইছে আনন্দের হওয়া। তবে সেই আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিল সেলেসাও সমর্থকদের মাঝে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরছেন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল কাণ্ডারি নেইমার জুনিয়র। আগামী বুধবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, আর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই মাঠে দেখা যাবে দলের এই প্রাণভোমরাকে। ব্রাজিল দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিজেই গণমাধ্যমকে নেইমারের ফেরার এই ইতিবাচক বার্তা নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বিশ্বকাপে নেইমারের চোট নিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্যে ছিল ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন ও কোটি ভক্ত। চোটের কারণে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে দলের বাইরে থাকতে হয়েছিল এই তারকাকে। মাঠের বাইরে থাকা নেইমারকে ছাড়াই নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই চোট কাটিয়ে ওঠা দলটির পারফরম্যান্সে স্বস্তি ফেরে। হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের রাস্তাটা সহজ করে নেয় সেলেসাওরা।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের শারীরিক অবস্থা এবং মাঠে ফেরার পরিকল্পনা পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, “নেইমারের ফেরার প্রক্রিয়াটি বেশ ইতিবাচক। আগামীকাল সে সম্পূর্ণ একা অনুশীলন করবে। এরপর সোমবার থেকে সে দলের বাকি ফুটবলারদের সাথে মূল স্কোয়াডে যোগ দিয়ে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে তাকে পাওয়ার বিষয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী।”
বারবার চোটে পড়া নেইমারের সর্বশেষ ইনজুরিটি তৈরি হয়েছিল গত ১৭ মে। সে সময় তাঁর ক্লাব সান্তোসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নেইমারের পেশি সামান্য ফুলে গেছে। চোটের গভীরতা কম মনে হলেও পরে জানা যায় এটি বেশ জটিল ছিল। তবে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে নেইমারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই চোট নিয়েই তাঁকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেন কোচ আনচেলত্তি।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) মেডিকেল টিম জানায়, নেইমারের পেশির চোটটি আসলে ‘গ্রেড-২’ পর্যায়ের ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁর অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। সেই নির্ধারিত সময়সীমা গত ১৭ জুন শেষ হয়েছে এবং নেইমার এখন ম্যাচ খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট।
দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরি জর্জেত থাকায় ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও অনেক ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। তবে যখনই তিনি ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে কাঁপুনি ধরিয়েছেন। বাছাইপর্বে মাত্র ৪টি ম্যাচে মাঠে নেমেই ২টি দুর্দান্ত গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৩টি গোল। মাঠে নেইমারের এই অবিশ্বাস্য কার্যকারিতাই প্রমাণ করে কেন তিনি দলের জন্য এতো অপরিহার্য। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও সেলেসাওরা তাদের এই পোস্টার বয়ের কাছ থেকে তেমন কিছুই প্রত্যাশা করছে।
বর্তমানে গ্রুপ ‘সি’-এর সমীকরণ বেশ জমে উঠেছে। হাইতিকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ব্রাজিল। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে মরক্কো। দিনের অন্য এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মরক্কো ১-০ গোলে স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করেছে। ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে স্কটিশরা।
গ্রুপ পর্বের সমীকরণ এবং দলের লক্ষ্য নিয়ে কার্লো আনচেলত্তি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়া। নকআউট পর্বের ড্রয়ের ক্ষেত্রে এটি আমাদের বাড়তি সুবিধা দেবে। তাই স্কটল্যান্ড ম্যাচকে আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। স্কটিশদের নিজস্ব কিছু শক্তি আছে, যা যেকোনো দলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচেও তারা ভালো প্রতিরোধ গড়েছিল। তাই আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে হবে, শান্ত থাকতে হবে এবং নিজেদের ভুলগুলো শুধরে মাঠে সেরাটা দিতে হবে।”