রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংস ও বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের একটি বাড়ির ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার বড় বোন রাইসার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার মা পারভীন আক্তার ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার এক পায়ের জুতা পড়ে থাকতে দেখেন।
[caption id="attachment_1881" align="alignright" width="420"] রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ছবি: সংগৃহীত[/caption]
ঠিক তখনই পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করা হলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার রক্তাক্ত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যবর্তী সময়ে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে দুই মাস আগে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন পেশায় রিকশা মেকানিক সোহেল রানা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর সোহেল রানা ঘরের শৌচাগারের (বাথরুমের) গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রীকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার আজ বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নিহত শিশুর শরীরের মূল অংশটি খাটের নিচে এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরটি থেকে রক্তমাখা বেশ কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মূল সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে ধরতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয় এবং অবশেষে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও কারণ জানানো হবে।
১৭ বছর ধরে পল্লবীর এই বাড়িতে বসবাস করছে রামিসার পরিবার। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে কর্মরত। ঘটনার পর রামিসাদের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা-বাবা।
এদিকে দুপুরের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। একজন মেকানিক কীভাবে এতোটা নৃশংস হয়ে উঠতে পারে এবং মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেশী একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে হত্যা করতে পারে, তা ভেবে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সুষ্ঠু বিচার এবং ঘাতক সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.