‘দূর থেকে দেখতে ভীষণ আরামদায়ক মনে হলেও, বাস্তবে এই চেয়ারটি মোটেও তেমন নয়। এই চেয়ারে বসলেই আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি তলা থেকে আগুনের তপ্ত হিট বা তাপ আসছে!’—জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই একটি বক্তব্যেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। প্রথম দেখায় সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক বিশাল ‘মহাকাব্য’। আর সেই মহাকাব্যের সত্যতা খুঁজতে স্বপ্নযোগে অনুসন্ধানে নেমেছিল জনপ্রিয় রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’। তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই গরম চেয়ারের আদ্যোপান্ত।
অনুসন্ধানী দলিলের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য এই বিশেষ চেয়ারটি কেনার আদি বাজেট ছিল মাত্র দুই হাজার টাকা। কিন্তু এই সাধারণ চেয়ার কেনার জন্য গঠিত ২১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের ‘চেয়ার-ক্রয় কমিটি’ প্রথমে পাড়ি জমান জার্মানিতে, আর সেখান থেকে সোজা আমেরিকায়। কমিটির ২১ সদস্য, তাদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং বিদেশ বিভূঁইয়ে গিয়ে শ্যালক-শ্যালিকাদের জন্য শ্যাম্পু, সাবান, জুতা ও স্যান্ডেল কেনাকাটা বাবদ খরচ হয়ে যায় ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা মাত্র!
বিদেশ সফর শেষে কমিটি দেশে ফিরে রিপোর্ট দেয়—মনমতো চেয়ার পাওয়া যায়নি। তবে একটা বুদ্ধি আছে, চেয়ার যদি কিনতেই হয় তবে তা চীন (চায়না) থেকে আনা উচিত। শর্ত একটাই, চেয়ারের তলায় লিখে দিতে হবে ‘মেড ইন সুইজারল্যান্ড’। এতে নাকি সবারই লাভ!
চায়না কোম্পানি যখন শুনল যে সুইজারল্যান্ডের সিল মারতে হবে এবং আসল দাম ১০ লাখ হলেও বিল করতে হবে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, তখন তারা অতি উৎসাহী হয়ে চেয়ারটিকে বিশেষ প্রযুক্তিতে ‘এয়ারকন্ডিশনড’ করে দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল চমৎকার—শীতের দিনে চেয়ার হবে গরম আর গরমের দিনে দেবে এসির মতো ঠান্ডা বাতাস।
কিন্তু বিপত্তি বাধল অন্য জায়গায়। যথাসময়ে চেয়ার বাংলাদেশে আসার পর দেখা গেল, সেটির ব্যবহারিক নির্দেশিকা বা ম্যানুয়ালটি সম্পূর্ণ চীনা ভাষায় লেখা। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চেয়ার-অফিসার চীনা ভাষা না জানায় আন্দাজে বোতাম টেপা শুরু করেন। ফলে ঠান্ডা হওয়ার বদলে চেয়ারটি শুধু গরম মোডেই চালু হয়ে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়বেলায় আমেরিকার চুক্তি, ভিআইপি প্রটোকল আর শতকোটি টাকার কর মওকুফের ফাইলের ভিড়ে চেয়ারের এই ত্রুটি ঢাকা পড়ে যায়।
ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী যখনই সেই চেয়ারে বসেন, তখনই অনুভব করেন তীব্র তাপ। সংসদে তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তির পর হাসির রোল উঠলেও পরিস্থিতি দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নেয়। রুমিন ফারহানা ক্ষমতার গরম নিয়ে কটাক্ষ করতে চান, অন্যদিকে সড়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনও নিজেদের এজেন্ডা নিয়ে মাইক ছাড়াই কথা বলতে শুরু করেন। সংস্কারের প্রস্তাব থেকে শুরু করে হাসনাতের গাড়ির বরাদ্দ এবং ফজলুর রহমানের হইচইয়ে সংসদের উত্তাপ যেন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের তাপকেও ছাড়িয়ে যায়।
অবশেষে নিজের চেয়ার নিজেকেই ঠান্ডা করার মিশনে নামেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে ঢুকে চীনা ম্যানুয়াল দেখে যখন তিনি দিশেহারা, তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন তাঁর কন্যা জাইমা রহমান। ভিডিও কলে বাবার সমস্যা শুনে তিনি ঝটপট বুদ্ধি দেন, ‘ম্যানুয়ালের ছবি তুলে এআই (AI)-কে দাও, এক সেকেন্ডে ইংলিশ করে দেবে।’
কন্যার পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতেই কেল্লাফতে! এআই চোখের পলকে চীনা ভাষাকে ইংরেজিতে রূপান্তর করে দেয় এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই চেয়ারের তাপমাত্রা ঠিক করেন। যদিও প্রথম দফায় চেয়ারটি বরফের মতো জমে গিয়েছিল, তবে আধা ঘণ্টার ধস্তাধস্তিতে তা কক্ষ তাপমাত্রায় ফিরে আসে।
এদিকে চেয়ার ঠান্ডা হওয়ার খবর পেয়ে খলিলুর রহমান দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী থাকার শর্ত মনে করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করেছেন, এই ‘মেড ইন চায়না’র কথা যেন কোনোভাবেই আমেরিকানরা জানতে না পারে!
অবশ্য এই পুরো রসরচনাটি প্রকাশের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্র তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘আমরা চেয়ার কিনতে কাউকে বিদেশে পাঠাইনি। হামের টিকা কেনার টাকা নেই, আমরা মাফলার বেচে চেয়ার কিনব নাকি!’
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.