দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে বড় ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যোগ্য ও প্রকৃত সংকটে থাকা প্রতিটি পরিবারই সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আসবে এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডের মতো সুবিধাগুলো সবাই পাবেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা স্বজনপ্রীতি এখানে স্থান পাবে না।
শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরবিশ্বাস ইউনিয়নে আয়োজিত এই জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সরকারি কার্ড বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আমার নিজের আত্মীয়-স্বজন বা দলীয় লোকের সুবিধা-অসুবিধার চেয়ে যারা মাঠপর্যায়ে প্রকৃত অর্থেই কষ্টে আছেন, দৈনন্দিন জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, সেইসব সাধারণ মানুষকে সহায়তা করাই এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য। আমাদের এই যাত্রায় এবং নির্বাচনের সময় অনেকেই নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা বা ডিস্টার্ব করেছে। কিন্তু আমরা সেসব নেতিবাচক বিষয়কে মোটেও বিবেচনায় নিইনি।"
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে এই কার্ড দেয় না। নাগরিকের প্রয়োজনই এখানে শেষ কথা। তাই আশা করা যায়, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষ ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং প্রবাসী কার্ডের মতো প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলো পর্যায়ক্রমে পেয়ে যাবেন।
অনুষ্ঠানে শুধু সামাজিক সুরক্ষা কার্ডই নয়, এলাকার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল ও বেগবান করতে পটুয়াখালী অঞ্চলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে বিগত দিনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, "বিগত সময়ে দেখা গেছে অনেকেই সরকারি প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা সাবাড় করে দিয়েছেন। এই অনিয়ম আর বরদাশত করা হবে না। এখানে যারা খাল খননের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, আপনাদের শতভাগ কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে।"
একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সচেতন নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের টাকা। এই টাকায় যখন খাল খনন, স্কুল ভবন নির্মাণ, ব্রিজ কিংবা রাস্তাঘাট তৈরি হচ্ছে, তখন কাজগুলো মানসম্পন্নভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব এলাকার সাধারণ মানুষেরও। তদারকিতে কোনো ত্রুটি দেখলে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আগামী দুই বছরের মধ্যে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার রাস্তাঘাটসহ সার্বিক অবকাঠামো খাতের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
চরবিশ্বাস ইউনিয়নে আয়োজিত এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম শাহজাদা এবং গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (গলাচিপা ও দশমিনা সার্কেল) আসাদুজ্জামান, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান, গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান এবং জেলা যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে এলাকার বহু অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে দ্বিতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর করা হয়।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.