
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন (২০)। অপর নিহতের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার (৯ মে) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, প্রায় ১৫ জনের একটি বাংলাদেশি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ভারত থেকে মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের গতিরোধ করে।
টহল দলের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিনসহ দুজন গুরুতর আহত হন। বিএসএফ আহতদের উদ্ধার করে ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভারতে ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা প্রাথমিক তদন্তে সীমান্ত চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত মুরসালিন উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. হেবজু মিয়ার ছেলে এবং তিনি একজন কলেজ শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্য নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.