
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সকল ইবতেদায়ি মাদরাসাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) আওতাভুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সিপিডির নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
সংলাপে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পরিচালিত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার কাজ চলছে। এর ফলে সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইবতেদায়ি মাদরাসার পাঠদান পদ্ধতি, কারিকুলাম এবং শিক্ষার মান একই সমান্তরালে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
তবে এই প্রক্রিয়াটি এখনই শুরু হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, "বিগত বছরগুলোতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে অস্থিরতা বা ভঙ্গুর দশা তৈরি হয়েছে, তা আগে সংস্কার করা প্রয়োজন। বর্তমানে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামতের কাজগুলো করছি। এগুলো গুছিয়ে ওঠার পরেই ইবতেদায়ি মাদরাসাকে অধিদপ্তরের অধীনে আনার বড় দায়িত্বটি বাস্তবায়ন করা হবে।"
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান বজায় রাখতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা ছাড়া এখন থেকে কোনো শিক্ষকই ক্লাসরুমে পাঠদান করতে পারবেন না।
বর্তমানে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের বিষয়ে তিনি বলেন, "শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের আগে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন, এমনকি মিছিলও করেছেন। কিন্তু আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অনড়। শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না। আশা করা যায়, আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষ করে তারা নিয়মিত পাঠদানে ফিরতে পারবেন।"
সংলাপে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে অধিদপ্তরের অধীনে আনা হলে এই ধারার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমবে এবং তারা মূলধারার শিক্ষার সাথে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.