চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির ইঙ্গিত মিলছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক চূড়ান্ত দর-কষাকষি শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি বড় ধরনের চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দুই দেশ। এই সম্ভাব্য চুক্তির মূল শর্ত হলো—ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত ত্যাগ করবে, যার বিনিময়ে ওয়াশিংটন তেহরানের জব্দ করা দুই হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ফিরিয়ে দেবে।
গত এপ্রিলের শুরু থেকেই যুদ্ধে এক প্রকার বিরতি চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে। তুরস্ক ও মিসরের প্রত্যক্ষ সমর্থনে পাকিস্তান এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে। এর আগে ১১ এপ্রিল প্রথম দফার বৈঠকটিও একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, দুই দেশ একটি চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ
[caption id="attachment_1496" align="alignright" width="583"] ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ছবি: এআই দিয়ে তৈরি[/caption]
করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে ওয়াশিংটনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের জন্য এখন বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ ও খাদ্য আমদানির জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দিলেও ইরান চেয়েছিল ২,৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি মাঝামাঝি অবস্থানে দুই পক্ষ সম্মত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরান এই অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করতে পারবে, তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে স্থগিত রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চাইলেও ইরান পাঁচ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীরা এই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এছাড়া:
উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
বাকি ইউরেনিয়ামের মান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কমিয়ে ফেলা হবে।
ইরানের সকল পারমাণবিক স্থাপনা মাটির ওপরে থাকতে হবে এবং ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রগুলো অকেজো করে রাখা হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এই আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প সরাসরি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কোনো অর্থ লেনদেন হবে না’ বলে একটি পোস্ট দিলেও কূটনৈতিক মহল একে দর-কষাকষির কৌশল হিসেবেই দেখছে।
শুক্রবার তুরস্কে একটি কূটনৈতিক সম্মেলনে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.