রাজধানীর জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। সপ্তাহখানেক আগে যেখানে তেলের জন্য রাতভর অপেক্ষা করতে হতো, এখন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন চালকরা। 'ফুয়েল পাস' পদ্ধতির ব্যবহার এবং সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার ও তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের মতো ব্যস্ত পাম্পগুলোতে এখন আর আগের মতো কিলোমিটার ব্যাপী যানবাহনের সারি নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে:
নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার: এখানে চালকরা গড়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে তেল পাচ্ছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি, বাইক ও ট্রাকের জন্য আলাদা সারি থাকলেও তা এখন বেশ ছোট।
তেজগাঁও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন: গত সপ্তাহে এই পাম্পের লাইন জাহাঙ্গীরগেট ছাড়িয়ে গেলেও আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১০-১৫ মিনিটের অপেক্ষাতেই চালকরা তেল নিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন।
বারিধারা থেকে আসা গাড়িচালক আলমগীর হোসেন জানান, গত সপ্তাহে তাকে রাত ২টায় লাইনে দাঁড়িয়ে সকাল ১১টায় তেল নিতে হয়েছিল। কিন্তু আজ কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত তেল পেয়েছেন। একইভাবে বাড্ডা থেকে আসা বাইক চালক রানা আহমেদ ও উত্তরা থেকে আসা আমিরুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতিকে 'স্বাভাবিক' বলে উল্লেখ করেছেন।
পাম্প কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ এখন পর্যাপ্ত। ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা হয়েছে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী 'ফুয়েল পাস' দেখে তেল দেওয়া হচ্ছে। অনেক পাম্পে চালকদের এই ডিজিটাল পাস ব্যবহারে সহায়তার জন্য আলাদা কর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তেল নিতে আসা রেজাউল করিম জানান, "আগে দীর্ঘ লাইনের ভয়ে পাম্পে আসতাম না। এখন লাইন ছোট দেখে সহজেই তেল নিয়ে নিচ্ছি।"
ইরান যুদ্ধ ও তেলের দাম বাড়ার পর যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই স্তিমিত। পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলো এখন যানজট ও ভোগান্তিমুক্ত।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.