সারাদেশে গতকাল থেকে শুরু হওয়া ভারী ও অতিভারী বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা শুরু হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাতেও দ্রুত পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, দেশের চারটি প্রধান নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো:
ভুগাই কংস
মনু
সোমেশ্বরী
মগরা
এর মধ্যে মনু নদী ব্যতীত বাকি তিনটি নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় এক থেকে দেড় মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত একটি কাঠের সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে (১৬১ মিলিমিটার)। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হলো:
ভোলা: ১৫১ মিলিমিটার
ফেনী: ১৪৮ মিলিমিটার
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগেই মঙ্গলবার রাত থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি চলছে।
[caption id="attachment_1347" align="alignnone" width="1035"] পাহাড়ি ঢলের পানিতে শিবগঞ্জ-তেরিবাজার ঘাটের কাঠের সেতু ভেঙে গেছে। ছবিটি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর দুর্গাপুর তেরিবাজার ঘাট এলাকা থেকে তোলা ছবি: প্রথম আলো[/caption]
"মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ছোট নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।"
— পার্থ প্রতীম বড়ুয়া, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত অন্তত আগামী ৪ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে এই বৃষ্টি একটানা সব জায়গায় না হয়ে বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.