
নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরপত্র টিভি নোয়াখালী | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে মামলা করায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ওই ছাত্রীর পরিবার। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি চর জব্বর থানার অন্তর্গত একটি মাদ্রাসার ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রী পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হলে তার দাদি তাকে চিকিৎসার জন্য প্রধান শিক্ষক আবুল খায়েরের কাছে নিয়ে যান। ওই শিক্ষক ‘কবিরাজি’ চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে ছাত্রীর দাদিকে কক্ষের বাইরে পাঠিয়ে দেন এবং ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন।ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি দফারফা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো বিচার না পেয়ে গত ১৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী পরিবার চর জব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে।
"অভিযুক্ত শিক্ষক মামলা না করার জন্য আমাদের বারবার হুমকি দিয়েছিলেন। স্থানীয় মাতব্বরদের কথায় বিশ্বাস করে আমরা দেরি করেছিলাম, কিন্তু বিচার পাইনি।" > — ভুক্তভোগীর পরিবার
মামলা হওয়ার প্রতিবাদে গত শনিবার সকালে মাদ্রাসার একদল ছাত্র ও শিক্ষকের অনুসারীরা অভিযুক্তের পক্ষে মানববন্ধন করেন। এরপর দুপুরের দিকে ওই ছাত্রীর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় তারা। এই হামলার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান:
নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর দাবি, সে একাই নয়, আরও কয়েকজন ছাত্রীকে ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময় নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে একইভাবে হেনস্তা করেছেন। মান-সম্মানের ভয়ে এবং প্রভাবশালী ওই শিক্ষকের ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।নিরাপত্তার অভাবে ওই ছাত্রীর পরিবার এখন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
উত্তরপত্র টিভি—সত্যের পথে, ন্যায়ের লড়াইয়ে।