দুই বছর আগে রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২২ জনকে অভিযুক্ত করে সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।
আদালতের আদেশে যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্টরা। এদিকে মামলার নয় আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সিআইডির তদন্তে জানা গেছে, বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একাধিক রেস্তোরাঁ ও কফিশপ পরিচালিত হচ্ছিল। অনুমোদিত নকশা না মেনে ভবনটি নবম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় এবং পুরো ভবনই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তদন্তে আরও উঠে আসে—
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, আগুন লাগার পর প্রধান ফটক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা মানুষ বের হতে পারেননি। বিল পরিশোধ ছাড়া বের হতে না দেওয়ার একটি অনিয়মিত প্রথার অংশ হিসেবে ফটক বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। ফলে ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়ে শ্বাসরোধে অনেকেই মারা যান।
ভবনের বিভিন্ন তলায় দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি ইন্টেরিয়র, গ্যাস সিলিন্ডারের উপস্থিতি এবং ছাদে অবৈধ স্থাপনার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খোলা জায়গার অভাব থাকায় নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগও ছিল না অনেকের।
এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে পরবর্তীতে তদন্তভার পায় সিআইডি। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় অবহেলা, নিয়মভঙ্গ ও নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে—যা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।