রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানজিদ নামের সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। গত এক মাসের মধ্যে এই হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
নিহত তানজিদ লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার রিয়াজুল ইসলামের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া সন্দেহে তার চিকিৎসা করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং শরীরে র্যাশ (চামড়ায় লালচে দানা) দেখা দিলে গত ১৫ এপ্রিল তাকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
তবে শিশুটির মা তিথি মনি হাসপাতালের নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, জরুরি মুহূর্তে অক্সিজেন সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি শিশুটিকে প্রথমে 'হাম কর্নার'-এ রাখা হলেও পরে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মতভেদ ছিল বলেও তিনি জানান।
রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আয়েশা সুলতানা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। সে দীর্ঘ ১২-১৪ দিন লালমনিরহাটে চিকিৎসাধীন থাকার পর এখানে এসেছিল।
নার্স ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
"অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। হাসপাতালের পরিচালক সংশ্লিষ্ট নার্স ইনচার্জ ও ওয়ার্ড মাস্টারকে তলব করেছেন এবং ডিউটি রোস্টার নতুন করে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন।"
হাসপাতাল প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (১৮ এপ্রিল সকাল ৯টা পর্যন্ত):
বর্তমানে ভর্তি: মোট ২২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন।
নতুন রোগী: গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে: গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জন।
রোগীদের এলাকা: আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে রংপুরের ৯ জন, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর ৪ জন করে এবং বাকিরা দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধার।
বয়স: আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগ (১৬ জন) শিশুর বয়স ৫ থেকে ১০ মাসের মধ্যে।
উল্লেখ্য, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে গত ২৩ মার্চ থেকে রমেকে হামের রোগী ভর্তি শুরু হয়। রোগীর চাপ সামলাতে ইতোমধ্যে হাসপাতালে দুটি পৃথক 'হাম কর্নার' চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭৭ জন শিশু এখানে চিকিৎসা নিয়েছে।
উত্তরপত্র টিভি
Copyright © 2026 Uttorpatro TV. All rights reserved.