কক্সবাজারে অস্ট্রেলীয় নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা: ৩ যুবকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড - Uttorpatro TV কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টায় ৩ যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

কক্সবাজারে অস্ট্রেলীয় নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা: ৩ যুবকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: July 6, 2026
আদালত প্রতীকী ছবি

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ অপরাধের শিকার হওয়া এক বিদেশি নারী পর্যটকের মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পেঁচার দ্বীপ এলাকায় ওই অস্ট্রেলীয় নাগরিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তিন যুবককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এলাকার মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল গফুর (২৬) ও বেলাল উদ্দিন (৩৬)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই মামলায় অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীকে আদালত সসম্মানে খালাস প্রদান করেছেন। রায়ের সময় সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম গণমাধ্যমকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং মোট ছয়জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় দেন। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী ও এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভ্রমণে আসেন ওই অস্ট্রেলীয় নারী পর্যটক। ভ্রমণের অংশ হিসেবে ১৪ ডিসেম্বর তিনি কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেঁচার দ্বীপ এলাকার একটি কটেজে রুম বুক করেন। কটেজে ওঠার দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ওই নারীর কক্ষে প্রবেশ করে এবং তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

আকস্মিক এই হামলায় আত্মরক্ষার্থে ওই নারী পর্যটক আসামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন এবং একপর্যায়ে শরীরে আঘাত পেয়ে আহত হন। পরে তিনি কোনোমতে কটেজের কক্ষ থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় ও আশপাশের মানুষের উপস্থিতির ভয়ে অভিযুক্ত যুবকেরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পরপরই আক্রান্ত বিদেশি নাগরিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’–এ কল করে পুলিশের দ্রুত সহায়তা চান। বার্তা পেয়ে রামু থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ওই অস্ট্রেলীয় নারীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

পরবর্তী সময়ে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রামুর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) স্বরূপ কান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশি অভিযানে আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুর নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

কক্সবাজারের পর্যটন খাতের নিরাপত্তা এবং বিদেশি অতিথিদের সুরক্ষার প্রশ্নে এই রায়কে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞ ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা মনে করছেন, দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।